বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সড়ক বিভাগের দাবি অনুযায়ী, তারা জমির খাজনা দেয়। আর গণপূর্তের নথি বলছে, তারা পৌরকর দিয়ে আসছে। কাগজে এ জমির মালিকানাও তাদের নামে। সিএস রেকর্ডে জমির মালিকানা ছিল সিঅ্যান্ডবির। পরে আরএস রেকর্ডে পুরো জমির মালিকানা চলে যায় সওজের নামে। তবে ভবনগুলো সবই গণপূর্তের। আর ক্যাম্পাসের যে বিশাল বাগান আছে, সেটিও গণপূর্তের লাগানো। বাগানে গাছের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। বাগানে সব মিলিয়ে তিন শতাধিক গাছ রয়েছে। এখানে ফলদ, বনজ ও বিলুপ্তপ্রায় অনেক ঔষধি বৃক্ষ রয়েছে।

ক্যাম্পাসের সব জমির মালিক সড়ক বিভাগ। আমাদের নামে জমির রেকর্ড রয়েছে। নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছি। আমাদের জমিতে আমরা ভবন করছি, এতে তো কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
শাকিরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুষ্টিয়া

গাছ কেটে ভবন করার বিষয়ে সওজ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সব জমির মালিক সড়ক বিভাগ। আমাদের নামে জমির রেকর্ড রয়েছে। নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছি। আমাদের জমিতে আমরা ভবন করছি, এতে তো কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। গণপূর্ত এর আগে মামলা করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন। নতুন করে একটি মামলা চললেও আদালত কোনো আদেশ দেননি। চলতি মাসের ১৯ তারিখ শুনানির সময় নির্ধারণ রয়েছে।’ গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জায়গায় গাছ লাগানো। আমরা গাছ কাটব, এখানে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

গণপূর্তের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে ঢুকতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের যে বিশাল বাগান, এটি তাঁদের করা। শহরের মধ্যে এ ধরনের বাগান আর নেই। চৌড়হাসে সড়ক বিভাগের অনেক জায়গা খালি পড়ে আছে। তারপরও তাঁদের লাগানো বাগানে ভবন করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। কয়েক বছর আগেও চৌড়হাসে সওজের প্রস্তাবিত সড়ক ভবনের সাইনবোর্ড ছিল। আর তাদের তিনতলা ভবন তো রয়েছেই, নতুন করে ভবন করার কোনো প্রয়োজনই নেই। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হবে, ভবনটি নষ্ট হবে।

পুরো ক্যাম্পাসের জায়গার পৌরকর আমরা দিয়ে আসছি। এখানকার সব ভবন আমাদের। যে বাগানে সড়ক ভবন করার জন্য সাইনবোর্ড দিয়েছে, সেটিও আমাদের। বাগানটি নষ্ট না করেও ভবন করা যায়। সওজের আলাদা জায়গা রয়েছে। প্রতিকারের জন্য গণপূর্ত আদালতে গেছে।
জাহিদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত কুষ্টিয়া

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুরো ক্যাম্পাসের জায়গার পৌরকর তাঁরা দিয়ে আসছেন। এখানকার সব ভবন তাঁদের। যে বাগানে সড়ক ভবন করার জন্য সাইনবোর্ড দিয়েছে, সেটিও তাঁদের। বাগানটি নষ্ট না করেও ভবন করা যায়। সওজের আলাদা জায়গা রয়েছে। প্রতিকারের জন্য গণপূর্ত আদালতে গেছে। সুন্দর একটি সমাধান হওয়া দরকার।

এদিকে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটার টেন্ডার করেছে সড়ক বিভাগের রাজশাহী অপারেশন ডিভিশন। বন দপ্তরের ২০১১-এর বিধি-৫ মোতাবেক ফরম ৩-এ গাছ কর্তন, অপসারণ ও পরিবহনের জন্য বন বিভাগ বরাবর আবেদন করতে হবে। অনুমতি না নিয়ে সড়ক বিভাগের রাজশাহী অফিসের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর ফিরোজ গাছকাটার দরপত্র আহ্বান করেছেন। জানতে চাইলে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর ফিরোজ প্রথম আলোকে বলেন, জায়গা নিয়ে মামলার বিষয়টি জানা নেই। সওজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাছকাটার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে যদি আদালতের কোনো বিধিবিধান থাকে এবং সেই ধরনের কোনো চিঠি থাকে, বিষয়টি দেখা হবে।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো. সোয়েব খান বলেন, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বন বিভাগ গাছ কাটার বিষয়ে সবকিছু করবে। এ ব্যাপারে সওজ কোনো কিছুই জানায়নি।

পরিবেশবিদ খলিলুর রহমান বলেন, কোনো কিছু করতে হলেই কেন গাছ কাটতে হবে। সরকার গাছ লাগানোর কথা বলছে, অথচ সরকারের দপ্তরেই গাছ কাটার আয়োজন চলছে। এমনটা হলে দুঃখজনক। গাছে প্রচুর পাখি বসবাস করে। বিকল্প ব্যবস্থা ভাবা ভালো।

কুষ্টিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আক্তারুজ্জামান মাসুম বলেন, ‘আদালতে গণপূর্ত থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে শুনানি হবে। কিছু ডকুমেন্ট চেয়েছি। যেখানে ভবন হবে, সেখানে বাগান আছে। তাই দুই দপ্তরের কর্মকর্তারা বসলে এর সহজ সমাধান হয়ে যায়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন