খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি নাসির উদ্দীনসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন হামলাকারীরা বাইরে চলে যান। বেলা তিনটার দিকে লালন শাহ ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা গেছে, ছয়টি কক্ষে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপসহ আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয়।

লালন শাহ ছাত্রাবাসের নিচতলার একটি কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী বিপ্লব হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। ল্যাপটপ, গিটার ভেঙে তছরুপ করা হয়েছে।’

default-image

ইশা খান নামের লালন শাহ ছাত্রাবাসের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা দোতলায় ছিলাম। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনাস পারভেজের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তাঁর সঙ্গে ছিল ৫০ থেকে ৬০ জন। প্রত্যেকের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল। সামনে যাঁকে পেয়েছেন, তাঁকে মারধর করেছেন। তাঁরা সবাই মীর মশাররফ ছাত্রাবাসে থাকেন।’

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আনাস পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘লালন শাহ ছাত্রাবাসের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা উত্তেজিত হয়ে মীর মশাররফ ছাত্রাবাসের ছেলেদের মারধর করেন। আমাকেও ইট মেরে রক্তাক্ত করেছেন। আমাকে মারা দেখে অনেকেই সহ্য করতে পারেননি। পরে সংঘর্ষ বাধে। লালন শাহ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্য নয়।’

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। উভয় হলে উত্তেজনা বিরাজ করায় ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তায় দুটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রী নিবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওসি সাব্বিরুল আলম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। থানায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন