ওসি প্রবীর কুমার আরও বলেন, ‘যেহেতু এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, সে কারণে আদালত লাশ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেননি। আদালত থেকে জানানো হয়, বিষয়টি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার। এ জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। মরদেহ যেহেতু কুষ্টিয়াতে দাফন করা হয়েছে, সে কারণে খুলনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি কুষ্টিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন।’

কুয়েটের শিক্ষক ক্লাবে শোকসভা
রোববার সকালে কুয়েট শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাবে শোকসভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবেন না তাঁরা। অধ্যাপক সেলিমের স্ত্রী সাবিনা খাতুন শোকসভায় ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে কথা বলেন।

সভায় কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আশরাফুল গনি ভূঁইয়া, অধ্যাপক পল্লব কুমার চৌধুরী, অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক পিন্টু চন্দ্র শীল প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বাইরে গঠিত তদন্ত কমিটিতে খুলনা জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন করে প্রতিনিধি থাকার কথা ছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই দুজন প্রতিনিধি পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মহিউদ্দীন আহমাদ প্রথম আলোকে বলেন, খুলনা জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিনিধি দিয়েছে। তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার বিকেলে কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম বৈঠক হয়।

মঙ্গলবার কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন (৩৮) ক্যাম্পাসের পাশের ভাড়া বাসায় মারা যান। ১ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত ছাড়া তাঁর মরদেহ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রামে দাফন করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর মানসিক নিপীড়নের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তাঁর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়।