default-image

চুয়াডাঙ্গায় কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে জখমের মামলার প্রধান আসামি এক ছাত্রলীগ কর্মী ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন ছাত্রলীগ কর্মী শাকিল আহমেদ ওরফে জিম ও তাঁর সহযোগী চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার ইনসান আলী।

পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে  আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সুপার (এসপি) সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়ার জেলা ছাত্রলীগের (প্রস্তাবিত কমিটির) সহসভাপতি শোয়াইব রিগানের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আবুল আজম সদর হাসপাতালে ভর্তি। রিগান তাঁর বাবাকে দেখতে ১ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর হাসপাতালে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর মামা জেলা কৃষক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মহসীন রেজা ছিলেন। ওই সময় ছাত্রলীগ কর্মী শাকিল আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ–সাতজন রিগানকে খুন করার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর সশস্ত্র হামলা চালান। এ সময় মহসীন রেজা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাঁকেও তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন।

আহত দুজনকে প্রথমে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় মহসীন রেজা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ–সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সশস্ত্র হামলাকারীদের ধরতে বুধবার দিবাগত রাতে সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান, তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রইচ উদ্দিন, আশিকুল ইসলাম ও আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এই সময় দুটি চাপাতিসহ শাকিল আহমেদ ও ইনসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’
পুলিশ সুপারের হুঁশিয়ারি
বৃহস্পতিবার দুপুরের ওই ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আসন্ন পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনা করছে। কিছু কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ক্যাডার, যাঁদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই, তারাই ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে ক্রমাগত চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে কোপাকুপির ঘটনা ঘটিয়ে চুয়াডাঙ্গার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নস্যাৎ করার পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে।
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী এসব সশস্ত্র হামলকারীদের নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বা পুলিশি তদন্তে সেসব নেতাদের নাম আসলে তাঁর দলীয় পরিচয় যা–ই থাকুক না কেন, এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0