বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিবছর অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি এ হাট বসে। প্রতিদিন ভোর থেকে হাটে শ্রমিক আর গৃহস্থদের আনাগোনা শুরু হয়। সকাল আটটার মধ্যেই আবার হাট ভেঙে যায়। সম্প্রতি এ হাটে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকে বাসের ছাদ, ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমনে করে দল বেঁধে শ্রমিকেরা কাজের সন্ধানে আসতে শুরু করেছেন।

কৃষকের চাহিদা আর দূরত্বভেদে উপজেলার কাছিকাটা, হাজিরহাট ও ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজার পয়েন্টে নেমে পড়েন এই শ্রমিকেরা। দরদাম করে মজুরি নির্ধারণ করে সেখানেই সেটি মিটিয়ে চাহিদামতো শ্রমিক নিয়ে যান কৃষকেরা।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী একজন পুরুষ শ্রমিক গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পান। তবে একজন নারী শ্রমিক কম মজুরি পান। তাঁদের গড় মজুরি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া থেকে আসা কয়েক শ্রমিক জানান, ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিয়ে তাঁরা কাজের আশায় এ হাটে আসেন। কারণ, কাজ পেলেই ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁদের চুলায় আগুন জ্বলে।

মা আমেনা বেগম নামের এক নারী বলেন, তাঁর স্বামীও দিনমজুর ছিলেন। তবে স্বামী অসুস্থ হওয়ায় তাঁর কাঁধেই এখন পুরো সংসারের দায়িত্ব। আমেনার সঙ্গে তাঁর গ্রামের আরও ১০ নারী শ্রমিকও এসেছেন কাজের আশায়।

শ্রমিকনেতা হেলাল প্রামাণিক বলেন, বছরের এ সময় সাধারণত অনেক এলাকায় কাজ থাকে না। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষেরা মিলে দল গঠন করে এ হাটে আসেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়েই আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ হতো। ২০০৫ সালের দিকে চলনবিলজুড়ে বিনা হালে রসুনের আবাদ শুরু হলে বাড়তি শ্রমিকের চাহিদা দেখা দেয়। এদিকে চলনবিলের বুক চিরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক নির্মাণের ফলে যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, পাবনার চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা থেকে এ হাটে শ্রমজীবী মানুষ দল বেঁধে আসেন শ্রম বিক্রি করতে।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মতিন বলেন, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক চালু হওয়ার পর থেকে তাঁর ইউনিয়নের নয়াবাজারে শ্রমিকের হাট বসছে। ধান কাটা ও রসুন রোপণের সময় এ হাটে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫-১২ হাজার শ্রমিকের জমায়েত ঘটে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন