বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ নৌকাবাইচের বাড়তি আকর্ষণ ছিল নৌকায় নৌকায় মেলা। নৌকায় ও ট্রলারে করে নৌকাবাইচ দেখতে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার মানুষ উৎসবের আমেজে খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ প্রত্যক্ষ করেন।

এদিন দুপুর থেকে নানা রং ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টিনন্দন একেকটি নৌকা বাইচ শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠিকারি, কাশির বাদ্যে ও তালে জারিসারি গান গেয়ে এবং নেচে হেঁইও হেঁইও রবে বইঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। মাল্লাদের সঙ্গে দুই কূলে সমবেত হন অগণিত সমর্থক ও দর্শক। খালের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

কালীগঞ্জ বাজারের সুশান্ত বণিক বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগে বিল এলাকার মানুষ চিত্তবিনোদনের জন্য নৌকা দিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করার মধ্য দিয়ে এই নৌকাবাইচের প্রচলন হয়। সে ঐতিহ্য এখনো চলছে। নৌকাবাইচ থেকে এলাকার মানুষ নির্মল আনন্দ উপভোগ করে।

default-image

নৌকাবাইচ দেখতে আসা কলাবাড়ি গ্রামের মানিক ওঝা বলেন, ‘নৌকাবাইচ থেকে শুধু আনন্দ পেতেই নৌকার মালিকেরা নৌকা নিয়ে এখানে আসেন। বাইচ উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়স্বজনেরা আসেন। ভালো খাবারের আয়োজন করা হয়। মিলেমিশে সবাই আনন্দ উপভোগ করি।’

কলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার কালীগঞ্জে নৌকাবাইচ এখনো বর্ণিল। এ অঞ্চলে বিশ্বকর্মাপূজা উপলক্ষে নৌকাবাইচের মধ্য দিয়ে মৌসুমের বাইচের সূচনা হয়। এই নৌকাবাইচের কোনো আয়োজক সংগঠন নেই। মনের খোরাক মেটাতে স্থানীয় লোকজন নৌকাবাইচ দিয়ে থাকেন। এ কারণে এখনো কোটালীপাড়ায় নৌকাবাইচ সগৌরবে টিকে আছে। প্রতিবছর দুর্গা ও লক্ষ্মীপূজায় কালীগঞ্জসহ কোটালীপাড়ার বিভিন্ন স্থানে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন