default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছয় ঘণ্টা আগেই শেষ হয়ে গেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষার কারণে আজ শনিবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এ হরতালের সমাপ্তি টানা হয় দুপুর ১২টায়। সকাল সাড়ে ১০টায় হরতালের পক্ষে মিছিল শেষে রূপালী চত্বরে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় হরতাল শিথিলের ঘোষণা দেন কাদের মির্জা।

এর আগে আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে বের হওয়া একটি মিছিলে ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। কাদের মির্জা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের হামলায় তাঁর ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হরতালের সমর্থনে কাদের মির্জার হাতে গোনো কিছু সমর্থক বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করেন।

শনিবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে হরতাল চলাকালে বসুরহাটের সব দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। হরতালে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। এ ছাড়া র‌্যাবের সদস্যদের সারাক্ষণ টহল দিতে দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে কাদের মির্জার সমর্থকেরা সড়কে তেমন বের হতে পারেননি। আগের হরতালের মতো রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতাও তেমন তৈরি করতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বসুরহাট রূপালী চত্বর থেকে থানার দিকে যায়। এ সময় থানার সামনে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় কাদের মির্জার। একপর্যায়ে কাদের মির্জা মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকলে পেছন থেকে পুলিশ ধাওয়া এবং লাঠিপেটা করে। এ সময় মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে গেলেও কাদের মির্জা সড়কের ওপর প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকেন। পরে দলীয় ও পরিবারের লোকজন তাঁকে সেখান থেকে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক শনিবার সকালে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, সকালে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার দিকে আক্রমণ করতে আসেন। এ সময় থানার সামনে অবস্থানকারী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কাদের মির্জা অশালীন উক্তি ও মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে কাদের মির্জা সমর্থকদের নিয়ে থানার দিকে ঢুকে পড়তে উদ্যত হলে তারা (পুলিশ) ধাওয়া করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কাদের মির্জা থানার সামনে সড়কের ওপর প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকেন। পরে দলীয় লোকজন তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন