বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশ কুমার দাশ কোভিড পরীক্ষা থেকে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা ফি আদায় করেন। কিন্তু সরকারি কোষাগারে জমা দেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০ টাকা। বাকি ২ কোটি ৫৮ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

এদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে অফিস থেকে বের হওয়ার পর প্রকাশ কুমারকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে খুলনা সদর থানায় প্রকাশ কুমারের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ওই জিডির ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকে অভিযোগ করেছিলেন খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ। মামলার প্রক্রিয়া হিসেবে অনুমোদনের জন্য তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছিল দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ার পর আজ মামলা করা হয়েছে।

হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন প্রকাশ কুমার দাশ। বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ওই পরীক্ষার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ঠিকমতো জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ওই মামলা করা হয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে খুলনার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন চিকিৎসক নিয়াজ মোহাম্মদ। ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও তিনি। যোগদান করার পর জানতে পারেন, ওই হাসপাতালে কোভিড পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকেরা সিভিল সার্জনের নাম করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। গত এপ্রিলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ার পর ওই হাসপাতাল থেকে কোভিড পরীক্ষার কাজে স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দেওয়া হয়। আর বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা প্রকাশ কুমারের কাছে সব পরীক্ষার তথ্য ও হিসাব চাওয়া হয়। হিসাব জমা দিতে গড়িমসি করছিলেন তিনি।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে দেখা যায়, প্রকাশ কুমারের জমা দেওয়া টাকার সঙ্গে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার অসংগতি রয়েছে। পরদিন প্রকাশ কুমারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠি দেন সিভিল সার্জন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। সকালে অফিসে এসে দুপুরে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যান প্রকাশ কুমার। এরপর থেকে আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দফায় দফায় তাঁর বাড়ি গিয়েও কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনই কোভিড পরীক্ষার টাকা হিসাব শাখায় জমা দিতেন প্রকাশ কুমার। তবে তা যে সেবাগ্রহীতাদের থেকে নেওয়া টাকার চেয়ে কম থাকত, তা কেউ বুঝতে পারেননি। ব্যাপারটি নিয়ে আগে কারোরই কোনো সন্দেহও হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন