উপজেলার উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে গেছে কুশিয়ারা নদী। সিলেটের বন্যার পানি নেমে আসায় আজমিরীগঞ্জে বন্যার পানি বেড়েছে। গত শনিবার থেকে এই নদীর পানি উপজেলাকে প্লাবিত করে। তিন দিন ধরে দুই-তিন সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরের।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান বলেন, বানভাসি মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেই অনুপাতে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা কম। আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, শিবপাশা এলাকায় আধা কিলোমিটার রাস্তা প্রায় এক ফুট পানির নিচে চলে গেছে। জলসুখা হয়ে আজমিরীগঞ্জ যাওয়ার রাস্তাও অনেকটা ডুবু ডুবু। দূর থেকে গ্রামগুলোকে দেখে মনে হয় একেকটা দ্বীপ। হবিগঞ্জ জেলা সদর থেকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে যাওয়ার সড়কের দুই পাশে পানি আর পানি। সড়কের দুই পাশে দেখা গেছে অসংখ্য পরিবার ধানের খড় দিয়ে এক চালাঘর তৈরি করে তাতে আশ্রয় নিয়েছে।

অনেক পরিবারকে দেখা গেছে রাস্তায় রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছে। এ সময় কথা হয় আজমিরীগঞ্জের বিরাট গ্রামের সখিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘর প্লাবিত হওয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন পাটশিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখানেও দুই দিন ধরে পানি। ফলে রান্না করার স্থান খুঁজে না পেয়ে রাস্তায় তিনি রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছেন।

জলসুখা সড়কের পাশে দক্ষিণ পাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। প্রায় ২০০ বানভাসি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে এখানে আশ্রয় নিতে এসে তাঁরাও পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া খালেদা আকতার বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় তাঁর ঘরে পানি ওঠে। তাই সেখানে ঠাঁই নিয়েছেন।

উপজেলা সদরে বসবাস করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মানিক সরকার (৬৫)। তিনি বলেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা একটি ভাটি অঞ্চল। অন্যান্য বছর কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেলেও হাওর ডোবে। কিন্তু এবার মানুষের বাড়িঘর রক্ষা পাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন