২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসমা আক্তার ব্র্যাক ও এসিডিআই/ভোকার সহযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে ১৫ দিনের লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডারের (এলএসপি) প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর ২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তিনি ব্র্যাক ও এসিডিআই/ভোকার সহযোগিতায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম প্রজননসেবা প্রদানকারী (এআইএসপি) হিসেবে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে এলাকায় তিনি গবাদিপ্রাণীর কৃত্রিম প্রজনন এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করেন। আর এতেই আসমা খুঁজে পান জীবনসংগ্রামে দারিদ্র্য ঘোচানোর নতুন পথ। বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা, পানিসারা এবং বাঁকড়া ইউনিয়নে কাজ করছেন। তিনি গত বছরের আগস্ট মাসে কিস্তিতে ৭২ হাজার টাকা দিয়ে একটা মোটরসাইকেল কিনেছেন। মুঠোফোনে ডাক এলে মোটরসাইকেলে তিনি বেরিয়ে যান। গাভি ও ছাগি—দুইয়েরই কৃত্রিম প্রজননসেবা প্রদান করেন আসমা। এ পর্যন্ত তিনি ৩৫০টির বেশি গাভি ও ছাগির কৃত্রিম প্রজননসেবা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে সাতটি ছাগি। প্রতি প্রজননে তিনি ৩০০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত টাকা পান। এর পাশাপাশি তিনি এলাকায় পশুপাখি লালনপালনে প্রশিক্ষণ দেন।

মেয়ে ফাহমিদা ইসরাত আফিয়াকে নিয়ে আসমার সংসার। মেয়ে বল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। স্বামী ফিরোজ হোসেন বর্তমানে মালয়েশিয়াপ্রবাসী। আসমা নিজেও বাড়িতে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করেন। মেয়ের লেখাপড়া, সংসারের কাজকর্ম সব একাই সামাল দেন আসমা।

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জি এম আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘একজন নারী গাভি ও ছাগির কৃত্রিম প্রজননসেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন, প্রথমে শুনে আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। পরে ফিল্ডে গিয়ে আসমা আক্তারের কাজ দেখেছি। তিনি ভালো কাজ করেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন