গাংনীতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় ৬৬ জনের নামে মামলা
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই ভাই নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দেড়টার দিকে নিহত ভাইদের চাচতো ভাই বেল্টু মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় নির্বাচনের সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় সদস্য প্রার্থী আতিয়ার রহমানসহ মোট ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর প্রধান আসামিসহ সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাথুলী ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আতিয়ার রহমান ও বর্তমান ইউপি সদস্য আজমাইন হোসেন দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে গত রোববার দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে পরদিন সোমবার সকাল আটটায় আতিয়ার ও তাঁর সমর্থকেরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আজমাইন হোসেনের সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। এতে আজমাইনের ফুফাতো দুই ভাই ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘ এক যুগের বিরোধে এ গ্রামের একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি বিল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর ওই বিল দখলকে কেন্দ্র করে ২০০০ সালে সাইদুল হোসেন খুন হন। পরে ২০১৭ সালে এনামুল হোসেনকে প্রতিপক্ষ আতিয়ার রহমানের সমর্থকেরা একটি বাঁশবাগানে চোখ উপড়ে ফেলে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায়ও প্রধান আসামি ছিলেন আতিয়ার রহমান। সম্প্রতি তিনি জামিনে বের হন।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপে আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাংনী উপজেলার পাঁচটি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কাথুলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান সদস্য আজমাইন হোসেন ও সাবেক সদস্য আতিয়ার রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গ্রামে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।