বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাটি ভরাট থেকে পুকুর রক্ষা, পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই পুকুরে মাটি ভরাট ও ভরাটকৃত স্থানে অডিটরিয়ামসহ অন্য যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানিনিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান আধার হিসেবে পুকুরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বন্যা–পরবর্তী সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে এই পুকুরের অবদান অনস্বীকার্য। গাইবান্ধা শহরের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষার্থে এই পুকুরের বিশেষ অবদান আছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দেশের বিদ্যমান আইন ও আদেশ অমান্য করে পুকুরটি ভরাট করে সেখানে মাল্টিপারপাস বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে পুকুরটি ভরাট করে এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণের দরপত্র আহ্বানের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাচীন এই পুকুর ভরাট হয়ে গেলে আশপাশে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হবে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন। পুকুর ভরাটের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন এবং পুকুর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী বেলা বরাবর আইনি সহায়তার জন্য চলতি বছরের ১৮ মার্চ আবেদন করেন। ১ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আটজনকে বিবাদী করে জনস্বার্থে বেলা মামলাটি করে। বেলার পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর মামলাটি করেন।

মামলার বিবাদীরা হচ্ছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তর (বিভাগীয় কার্যালয়) রংপুরের পরিচালক, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

এসব বিষয়ে রাতে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে বেলার কাছে আবেদনকারী গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর কবির হাইকোর্টের রুলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই রুলে শতবর্ষী পুকুরসহ পরিবেশ রক্ষা পাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন