বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বেলা দুইটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, সংকুলান না হওয়ায় এক শয্যায় দুই থেকে তিনটি শিশুকে রাখা হচ্ছে। ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও অভিভাবকদের বসার জায়গায় রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। যারা ওই সব জায়গায়ও স্থান পাচ্ছে না, তাদের জন্য কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চত্বরের শিশু বিভাগের সামনে ও ভেষজ বাগানের গাছেরতলায় শামিয়ানা টানিয়ে দিয়েছে। অভিভাবকেরা সেখানে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০টি শিশু ভর্তি থাকলেও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় রোগী বেড়ে গেছে। এখন দুই শতাধিক শিশু ভর্তি থাকছে।

সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের হরিপদ রায় (৪২) গত মঙ্গলবার মেয়ের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। চিকিৎসক তাঁর মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি হতে পরামর্শ দেন। ভর্তির পর ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে ঠাঁই নেন গাছতলায়। হরিপদ রায় বলেন, বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে ও শিশু বিভাগের সামনে দুটি শামিয়ানা টানিয়ে দেয়। সেই থেকে দিনের বেলা সেখানে ও রাতে হাসপাতালের ফাঁকা কোনো জায়গায় থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। তিনি জানান, চিকিৎসা পেয়ে মেয়ে এখন কিছুটা সুস্থ। আজ-কালের মধ্যে বাড়ি চলে যাবেন।

পাশে বসে হরিপদ রায়ের কথা শুনছিলেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রানীগঞ্জ গ্রামের সাহেদুর রহমান (৩৩)। তিনিও মেয়েকে নিয়ে তিন দিন ধরে শামিয়ানার নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। সাহেদুর বলেন, ‘দুই দিন থেকে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে আমাদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। বৃষ্টি এলেই বাচ্চাকে নিয়ে দৌড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়।’

default-image

সদর উপজেলার বালাপাড়া গ্রাম থেকে ছেলের চিকিৎসা করাতে আসা সুব্রত বর্মণ (৪৫) বলেন, ‘শামিয়ানা খাটানোয় রোদ থেকে রক্ষা পাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু রাতে মশার কামড়ে টেকা যায় না। তাই দিনে শামিয়ানার নিচে কাটিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যাই।’

এক রোগীর স্বজন হাসিনুর রহমান বলেন, যেখানে ৪৫ জন মানুষ থাকার কথা, সেখানে ২০০ রোগী থাকে। এত মানুষ থাকার কারণে ওই ঘরগুলোয় গরমে টেকাও যায় না। গাছতলায় একটু হলেও বাতাস পাওয়া যায়। গড়েয়া গোপালপুর গ্রামের তাহেরা বানু (৩৯) বলেন, ‘হাসপাতালের লোকজন বাচ্চাদের কষ্ট দেখে শামিয়ানা করে দিছে। এই জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু হাসপাতালে যেভাবে রোগী বাড়ছে, তাতে শামিয়ানা না করে ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’

আজ ছুটির দিন হলেও হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজকে শিশু রোগীদের খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে। পরে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এই হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসার সুনাম আছে। এ কারণে আশপাশের জেলার অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে এই হাসপাতালে চলে আসেন। আর এ কারণে এখানে সব সময় রোগী বেশি থাকে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০টি শিশু ভর্তি থাকলেও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় রোগী বেড়ে গেছে। এখন দুই শতাধিক শিশু ভর্তি থাকছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নাদিরুল আজিজ বলেন, ‘আপনারা জানেন, এই হাসপাতালে সব সময় শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকে। আমরা কখনোই চাই না কোনো অসুস্থ শিশু চিকিৎসা নিতে এসে এখানে কষ্ট পাক। হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা না দিতে পারলেও অন্তত যেখানে থেকে শিশুরা চিকিৎসা নিচ্ছে, সেই পরিবেশটা একটু ভালো হোক, এই ভাবনা থেকেই হাসপাতাল চত্বরে শিশু রোগীদের জন্য দুটি শামিয়ানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর আমরা পাশের একটি ভবনে শিশু ওয়ার্ড সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা বাস্তবায়িত হলে শিশু ওয়ার্ডের শয্যাসংকট কিছুটা হলেও কমবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন