গাছে পেরেক মেরেই যত প্রচারণা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গাছে লোহার পেরেক মেরে সাঁটানো হয়েছে ফেস্টুন। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
ছবি: প্রথম আলো

একটি মেহগনিগাছে পাঁচটি ফেস্টুন। সবার ওপরে আইইএলটিএসের কোচিং সেন্টারের ফেস্টুন, এর নিচে লাগানো ফেস্টুনটি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনের। আরও আছে গৃহশিক্ষক চেয়ে ও গাড়ির শোরুমের প্রচারণার ফেস্টুন। সব কটি ফেস্টুনই সাঁটানো হয়েছে গাছে লোহার পেরেক মেরে।

মেহগনিগাছটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গাছে এমন পেরেক মেরে ফেস্টুন টাঙানোর চিত্র ক্যাম্পাসে হরহামেশাই চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও গাছের পরিচয়-সংবলিত বোর্ডও লাগানো হয়েছে পেরেক মেরে। বৃক্ষপ্রেমীরা বলছেন, যে গাছ শীতল ছায়া দেয়, সে গাছে লোহার পেরেক মারা নিষ্ঠুরতার শামিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনের আরেকটি মেহগনিগাছে গৃহশিক্ষক চাই, টিউটর আবশ্যক লেখা আরও চারটি ফেস্টুন লাগানো। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে এই ফেস্টুন পড়ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থীর বাবা। খাইরুল ইসলাম নামের এই অভিভাবক তাঁর মেয়েকে নিয়ে এসেছেন নওগাঁ থেকে।

খায়রুল ইসলাম বলেন, যে গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, সেই গাছেরই ক্ষতি করা হচ্ছে। তা-ও আবার শিক্ষার্থীরাই এটা করছেন। ক্যাম্পাসের প্রায় গাছেই ছাত্রসংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেরেক মারা ফেস্টুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দেবদারুগাছে দেখা গেল, ওই গাছের ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নামের পরিচিতি লেখা একটি টিনের পাত। সেই পাতও ওপরে-নিচে দুটি পেরেক মেরে টাঙানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে এগুলো লাগানো হয়েছিল।

গাছ পরিচিতির বোর্ডও সাঁটানো হয়েছে পেরেক মেরে
ছবি: প্রথম আলো

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনের গাছ; এমনকি প্যারিস রোডের গগনশিরীষগাছেও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনসহ বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক ফেস্টুন পেরেক মেরে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী মনজুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গাছে পেরেক মারলে সেখানে মরিচার সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে গাছের শত্রু ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ঢুকে গাছের নানা অসুখ-বিসুখের তৈরি করে। গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, ঝড়-বৃষ্টিতে সহজেই গাছ ভেঙে যায়।

গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের। এই প্রকল্পের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, গাছগুলোতে অমানবিকভাবে পেরেক ঠুকে ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। এতে গাছের ক্ষতি হয়। গাছের প্রতি যত্নবান হওয়া দরকার। তাঁরা এসব ফেস্টুন সরানোর উদ্যোগ নেবেন।