বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শহীদ বরকত স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানায়, স্টেডিয়ামে কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের গণটিকা দেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার সেখানে কোনো কেন্দ্র রাখা হয়নি। তারপরও আগে টিকা দেওয়ার সূত্র ধরে লোকজন তাঁদের ইচ্ছেমতো ভোর থেকে সেখানে টিকা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পার হলেও টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছিল না। পরে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের এখানে কোনো টিকাদানকেন্দ্র নেই। ওই খবরে টিকাপ্রত্যাশীরা উত্তেজিত হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে স্টেডিয়ামের কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে কার্যালয়সহ নিচতলা, দ্বিতীয় তলার সব কক্ষের জানালা ও দরজার গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এতে গ্লাসের আঘাতে পাঁচজন টিকাপ্রত্যাশী আহত হন। তাঁরা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লোকজন শান্ত হলে পুলিশ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সেখানে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে।

শহীদ বরকত স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, টিকা না পেয়ে টিকাপ্রত্যাশীরা হামলা করে স্টেডিয়ামের কার্যালয়ের সব গ্লাস ও একটি কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলেছেন। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিন পুলিশের সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, স্টেডিয়ামে টিকাদানকেন্দ্র না থাকলেও লোকজন সকাল থেকে সেখানে ভিড় জমান। দীর্ঘক্ষণ লাইনে থেকে টিকা দেওয়া হবে না জেনে তাঁরা কিছু ভাঙচুর করেছেন। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

default-image

কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হান জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদে সকাল থেকে টিকা নিতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। একপর্যায়ে সেখানে টিকাপ্রত্যাশীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে আফজাল হোসেন, আসলাম মিয়া নামের দুই ব্যক্তি ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে আহত হন। তাঁদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও পাঁচটি উপজেলার ৭৪১টি কেন্দ্রে সকাল থেকে গণটিকা কর্মসূচি শুরু হয়। এ জন্য ভোর থেকেই টিকাপ্রত্যাশীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। টিকা নিতে গিয়ে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। অনেক কেন্দ্রেই ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নাজেহাল অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, স্টেডিয়ামে কেন্দ্র না থাকায় ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। তিনি বলেন, গাজীপুর জেলায় শনিবার ৭৪১টি কেন্দ্রে তিন লাখ টিকার দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। গণটিকা কর্মসূচিতে দুই হাজার স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন