বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে আটটায় চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় চাকরিজীবী মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকায় তাঁর বাড়ি। তিনি প্রতিদিন চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে সকালে গাড়িতে উঠে ধানমন্ডি গিয়ে অফিস করেন। ধর্মঘটের কথা শুনে সকাল ৬টা থেকে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না। তাই তিনি রিকশা বা পিকআপের খোঁজ করছেন।

একই এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাঁর চাচা অসুস্থ। ভর্তি আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাঁর জন্য খাবার ও টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যানবাহন না পেয়ে নিরুপায় হয়ে একটি মালবাহী পিকআপে উঠেছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকাগামী স্ট্যান্ডে শতাধিক মানুষ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

গাজীপুরের বিভিন্ন মহাসড়কে দেখা যায়, ধর্মঘট শুরু হওয়ায় কোনো বাস চলছে না। তবে রাতে যেসব গাড়ি ঢাকায় ঢুকেছে, সেসব গাড়ি ফিরতে দেখা গেলেও কোনো যাত্রী নিচ্ছে না। এতে শত শত মানুষ রাস্তার পাশে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। বিশেষ কাজ থাকায় অনেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যান।

বগুড়াগামী বাসের চালক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘রাতে ঢাকায় এসেছিলাম। এখন যাত্রী ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে পৌঁছালে আর গাড়ি নিয়ে বের হব না।’

গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান উদ্দিন সরকার বলেন, ভাড়ার সঙ্গে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো সমন্বয় না হওয়ায় কেন্দ্রীয় পরিবহন নেতাদের সিদ্ধান্তে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। হয় তেলের মূল্য কমাতে হবে, না হয় ভাড়া বাড়াতে হবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. মাকসুদুর রহমান জানান, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দূরপাল্লার কোনো পরিবহন চলছে না। তবে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর জানা নেই।

কোনাবাড়ীতে সালনা হাইওয়ে থানার ওসি মীর গোলাম ফারুক বলেন, কোথাও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন