default-image

মাদারীপুরে এক গৃহবধূকে (২৮) অপহরণ করে ভাড়া বাড়িতে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে ওই গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাঁদের আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিদের গতকালই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার পানিছত্র এলাকায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পানিছত্র এলাকার ফারুক হোসেন ব্যাপারী (৪৬), মহিষেরচর এলাকার তৈয়ব আলী হাওলাদার (৪৮) ও একই এলাকার লিটন হাওলাদার (৪৯)। অভিযোগ পেয়ে গতকাল বিকেলেই সদর উপজেলার কলাবাড়ি ও পানিছত্র এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৮।

ওই গৃহবধূ ১০ বছর বয়সী এক সন্তানের মা। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। তিনি মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। পানিছত্রে লন্ড্রির দোকানে দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন।
বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার, র‍্যাব ও সদর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর পানিছত্র এলাকা থেকে ওই গৃহবধূকে অপহরণ করেন ফারুক হোসেন ব্যাপারী। পরে তাঁকে কলাবাড়ি এলাকার এক ভাড়া বাড়িতে আটকে রাখে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত তিন আসামি। গতকাল সকালে অপহরণের শিকার ওই গৃহবধূ র‍্যাবকে কৌশলে ঘটনাটি জানান। পরে র‍্যাব ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। এ সময় প্রধান আসামি ফারুক হোসেনকেও হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ফারুকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শহরের পানিছত্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর দুই আসামি লিটন ও তৈয়ব আলীকে আটক করা হয়।

ফারুকসহ অভিযুক্ত তিনজন ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে জোর করে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ওই গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয় খোঁজ নিয়ে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হই আমরা।
মো. ইফতেখারুজ্জামান, র‍্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার

আসামিদের গতকাল বিকেলে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আসামিদের হাজির করা হয়। এ সময় বিচারক শহিদুল ইসলাম তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ওই গৃহবধূ ১০ বছর বয়সী এক সন্তানের মা। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। তিনি মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। পানিছত্রে লন্ড্রির দোকানে দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। তাঁর স্বামী এই বাড়িতে থাকেন না, তিনি থাকেন কুষ্টিয়ায়। ওই গৃহবধূর সন্তান তাঁর সঙ্গে থাকলেও ঘটনার সময় সন্তানটি কুষ্টিয়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ফারুকসহ অভিযুক্ত তিনজন ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে জোর করে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ওই গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয় খোঁজ নিয়ে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হই আমরা। পরে শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আমরা অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’

মাদারীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই গৃহবধূর মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষণ ও অপহরণের বিষয়টি পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত করছে।

মন্তব্য পড়ুন 0