মরিয়ম বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী অত্যন্ত অলস। বিয়ের মাস ছয়েক পর থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন স্বামী ইমান আলী, দেবর ইউনুছ আলী, শশুর আমিনুর রহমান ও শাশুড়ি রিনু বেগম। টাকা না দেওয়ায় তাঁর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

মাস তিনেক আগে একই দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পর মরিয়মকে টাকা আনার জন্য বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) পর্যন্ত গড়ালে চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় মরিয়মকে নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী। এর কিছুদিন পর ইমান ঢাকায় যান। কিন্তু স্ত্রীর খোঁজ রাখেননি।

মরিয়মের অভিযোগ, স্বামী ঢাকায় চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন দেবর, শ্বশুর ও শাশুড়ি। গত ১৯ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মাথার চুল কেটে দেন তাঁরা। এ অবস্থায় কোলের ছয় মাস বয়সী শিশুসন্তান নিয়ে মরিয়ম দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে থাকেন।

থানায় দায়ের করা মামলা ও প্রতিবেশী অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ঈদের আগে ইমান ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। আজ শনিবার সকালে পুনরায় ওই যৌতুকের টাকা আনার জন্য মরিয়মকে চাপ দেন তিনি। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে স্বামী, দেবর, শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে মরিয়মকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখেন। প্রতিবেশীরা তা সহ্য করতে না পেরে বিকেলে গঙ্গাচড়া থানা–পুলিশকে খবর দেন।

আজ সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ সময় মরিয়মের স্বামী ইমান ও শাশুড়ি রিনু বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরে মরিয়মের বাবা মমিনুর রহমান বাদী হয়ে তাঁর স্বামী, শ্বশুর–শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ আটক তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার দেখান।

প্রতিবেশী চার ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, মরিয়মের বাবা হতদরিদ্র। এরপরও যৌতুক বাবদ টাকা আনতে বলা হয় মরিয়মকে। টাকা না পেয়ে প্রায়ই তাঁকে বাড়ির ভেতরে মারপিট করা হতো। এমনকি মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়। এমন নির্যাতন করা দেখে প্রতিবেশীরা অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটিকে রক্ষায় থানায় খবর দেন।

ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার জীবনটাকে ওঁরা (স্বামী-শাশুড়ি) শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু ভয়ে থানা পর্যন্ত যাইতে পারিনি। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমি যেন সঠিক বিচারটুকু পাই।’

থানাহাজতে আটক মরিয়মের স্বামী ইমান আলী বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি। ক্ষমা চাই।’

গঙ্গাচড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মরিয়মের বাবার দেওয়া অভিযোগ আজ রাতে থানায় নথিভুক্ত করে তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে কেটে বস্তায় রাখা মরিয়মের মাথার চুল উদ্ধার করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন