দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেগম বানু বলেন, ‘গেলো বছর বানোত (বন্যা) স্বামী নিখোঁজ হইছে। এলাও পাওয়া যায় নাই। এবারও নদীর পানি বাড়েছে। তাই নদীর বান খুব ভয় হয়। দুকনা (দুইটা) ছাওয়া নিয়া পাকা রাস্তার ওপর যামো। বাড়ির মালামাল নিয়া ছুটি যাছোও, কারও কাছে ঠাঁই নেওয়ার জন্য।’

গতবারের বন্যার স্মৃতি জানতে চাইলে বেগম বানু বলেন, ‘দেখতে দেখতে মোর চোখের সামনোত নদীর পানি স্রোতে হারে গেল। সেই দৃশ্য কি ভোলা যায়? এই তিস্তা নদীই মোর স্বামীক নিছে। তাই খুব ভয় হয়। এবারও নদীর বান আসপে। মাইকিং করেছে। দুইটা ছোট ছাওয়াক নিয়া এই মাটির বাঁধোত দাঁড়ে আছোও। এটে থাকি পাকা রাস্তাত যায়া উঠমো।’

default-image

বেগম বানুর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে তিনি থাকেন। তাঁরা দুজন পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বসতভিটা ছাড়া সামান্য আবাদি জমি আছে বেগম বানুর। সেখানে কিছু ধান ও ভুট্টা আবাদ হয়। তবে বেগম বানু নদী পার হয়ে মহিপুর এলাকায় অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এভাবে কোনোরকমে তাঁর সংসার চলছে।

বেগম বানুর সংসারে শেষ সম্বল হিসেবে পশ্চিম ইছলি গ্রামে একটি টিনের ঘর রয়েছে। এক সময় অনেক আবাদি জমি ছিল। চারটি গরু ছিল। জমিতে নিয়মিত ধান আর ভুট্টার আবাদ হতো। তবে এখন কিছুই নেই বললে চলে। তাই একটু দূরের গ্রামের গিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। কিন্তু কারও কাছে হাত পাতেন না। হাত পাততে তাঁর লজ্জা লাগে।

স্বামী থাকলে হয়তো সংসারের দায়িত্ব দুইজন ভাগাভাগি করে নিতেন। তাই এখনো মনে মনে বেগম বানু স্বামীকে খোঁজেন। তবে স্বামীকে হারানোর পর থেকে নিজেই পুরো সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। গেল বছরের বন্যার পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন বেগম বানু। তবে আবার তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করায় নতুন করে ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অন্যদের চেয়ে বেগম বানুর ভয় একটু বেশি। তবে সবকিছু ভাগ্যের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নদীর দিকে তাকিয়ে ‘কপালোত যা আছে তাই হইবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন