বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রফিকুল ইসলামের অর্ধেক বাড়ি নদীতে নেমে গেছে, বাকি অর্ধেক তিনি এখনো সরিয়ে নেননি। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি ভেঙে নিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাই অপেক্ষা করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকাতে পারে, তাহলে তাঁর বাড়িটা আর নতুন করে করতে হবে না।

গোলাম রসুল (৬০) ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ করে একটি পাকা বাড়ি করেছিলেন। সেই বাড়ির দুই পাশেই ভেঙে নদী ভেতরে ঢুকে গেছে। বাড়ির সামনে একটি বাঁশঝাড় থাকার কারণে শুধু বাড়িটি ত্রিভুজ আকারে রয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে, যেকোনো সময় পাকা বাড়িটি নদীর মাঝখানে ঝুপ করে পড়ে যাবে। গোলাম রসুল বলেন, তিনি সারা জীবন মহিষ পালন করে যা টাকা জমিয়েছিলেন, শেষ বয়সে এসে এই বাড়িখানা করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী রত্না বেগম এসে বললেন, এই বাড়ি ভেঙে নিয়েই কী করবেন। তাঁদের বাড়ি করার তো জায়গা নেই। আর বাড়ি ভাঙতে লাখ টাকার বেশি খরচ হবে। সে টাকাও তাঁদের কাছে নেই।

এলাকার বাসিন্দা সুমির উদ্দিন বললেন, তিনি একটি মসজিদ কমিটির সভাপতি। নিমতলা গ্রামে চারটি মসজিদ, একটি মন্দির এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামে ৫০০ পরিবারের বাস। বাড়িঘরসহ এসব প্রতিষ্ঠান একেবারে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

নিমতলা চকপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের নিচ দিয়ে পদ্মার স্রোত বয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন বললেন, বিদ্যালয়ের মাঠ নদীর ৫০ ফুট দূরেও নেই। এবারের নদীভাঙন নিয়ে তাঁরা খুব চিন্তায় রয়েছেন।

পদ্মার মরা শাখায় আবার জোয়ার আসার ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, এটা প্রাকৃতিক ব্যাপার। বলা যায় না নদী কখন তার গতি পরিবর্তন করবে। তিনি বলেন, অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর জন্য তাঁরা দুই ফেজে ১২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলেছেন। আর স্থায়ীভাবে নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য একটি সমীক্ষা প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন