বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঈদ এলেই একসময় গ্রামেগঞ্জে মেহেদি দেওয়ার ধুম পড়ত। মেহেদিগাছ খোঁজার ‘অভিযানে’ নামত অনেকেই। মেহেদিপাতা এনে রাতভর বাটা হতো। রং বেশি পাওয়ার জন্য পাতার সঙ্গে চুন, খড় আর কাঁঠালগাছের ডালের লাল অংশ ব্যবহার করা হতো। চাঁদরাতে মেহেদি দিয়ে রাত কেটে যেত নির্ঘুম। গ্রামের সেই প্রচলন এখনো আছে। তবে সেই রাতজাগা নেই, নেই গাছের মেহেদি।

টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব শামসুল হকের সঙ্গে মেহেদির আলাপ তুলতেই বললেন, এখন হাতে আর কেউ গাছের মেহেদি দেয় না। গাছের মেহেদি তাঁদের মতো দু-একজন মাথায় দেন। তা ছাড়া সারা বছর মেহেদিপাতা গাছেই থাকে। কেউ ছুঁয়েও দেখে না। আক্ষেপের সুরে বললেন, ‘ছেলেপুলেরা রাত জেগে মেহেদি দিত। পাড়ার সমবয়সীরা একসঙ্গে অনেকেই বসত। সেই ঈদ এখন আর নেই।’

একই গ্রামের কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন গ্রামে আর কেউ গাছের মেহেদি দেন না। এখন শিলপাটায় মেহেদি পাতা বেটে হাতে লাগানোর মতো কষ্ট কেউ করতে চান না। সবাই বাজারে গিয়ে মেহেদি কিনে আনেন। হাতে লাগালে অল্প সময়ের মধ্যেই গাঢ় লাল হয়ে যায়। অথচ এগুলো সবই কেমিক্যালে তৈরি। ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

কালিদাস গ্রামেই এ প্রতিবেদকের বাড়ি। সেখানে কয়েকটি বাড়িতে মেহেদিগাছের খোঁজ করা হয়। বেশির ভাগ বাড়িতে আগের সেই মেহেদিগাছ নেই। আজ সোমবার বিকেলে গ্রামের একটি বাড়িতে মেহেদিগাছ পাওয়া যায়। সতেজ গাছের মেহেদিপাতা কেউ ছিঁড়েনি। একটি বাড়ির মেহেদিগাছের মালিক নারী সদস্য বললেন, আজ থেকে ৮-১০ বছর আগে ঈদের সময় এমন গাছে একটি পাতাও থাকত না। গাছের ডাল পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হতো। এ নিয়ে ঝগড়া বেধে যেত।

আজ সন্ধ্যার পর গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছেলেমেয়েরা একে অপরকে মেহেদি লাগিয়ে দিচ্ছে। হাতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রকম নকশা। শিশুদের কোমল হাতেও দেওয়া হচ্ছে বাজারের কেনা মেহেদি। সঙ্গে সঙ্গেই ‘কালো’ মেহেদি লাল হয়ে যাচ্ছে।

বাজারের মেহেদির একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখা গেছে, একটি কোম্পানির ২৫ গ্রামের মেহেদি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ওই মেহেদির প্যাকেটে উপাদান হিসেবে লেখা আছে সিনথেটিক কালার ডাইস, এসেনশিয়াল অয়েল, ডিএম ওয়াটার, ইমল্যাসিফাইং পাউডার ও প্রিজারভেটিভ। এগুলো সবই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্যাকেটের গায়ে অবশ্য যাঁদের ত্বকে অ্যালার্জি সমস্যা আছে, তাঁদের ব্যবহারে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, পাঁচ মিনিটেই রং হয়। বেশি রঙের জন্য অন্তত ২০ মিনিট লাগিয়ে থাকতে হবে।

টাঙ্গাইল জেলার সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে যেসব মেহেদি পাওয়া যায়, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এটা সবাই জানে। তবু এই মেহেদির প্রচলন ব্যাপক। সবারই প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করা উচিত। এটা স্বাস্থ্যসম্মত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন