গ্রেপ্তারের পর গোদাগাড়ীর সেই অপারেটর বরখাস্ত

বিষপানে দুই কৃষকের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন
ছবি: প্রথম আলো

গ্রেপ্তারের পর আজ রোববার রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বরখাস্ত করেছে। ধানের জমিতে সেচ না পাওয়ায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘটু গ্রামের দুই সাঁওতাল কৃষকের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার আসামি হিসেবে তাঁকে গতকাল শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাখাওয়াত হোসেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পরিচালিত ঈশ্বরীপুর-২ গভীর নলকূপের অপারেটর। তাঁর বাড়ি ঈশ্বরীপুর গ্রামে। এই গভীর নলকূপ থেকেই পাশের সাঁওতাল অধ্যুষিত নিমঘটু গ্রামের কৃষকদের জমিতে সেচ দেওয়া হয়।

সেচ দেওয়ায় অনিয়মের কারণে এলাকাবাসী ২০২০ সালে একবার এবং ২০২১ সালে আরেকবার সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে বিএমডিএর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তারপরও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়নি। তাঁর নামে কৃষক আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করা হয়েছে। চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গোদাগাড়ীর নিমঘটু ও ঈশ্বরীপুর গ্রাম পরিদর্শন করে স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে নাকি তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ায় অপারেটর সাখাওয়াতকে বরখাস্ত করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান প্রথম আলোকে বলেন, ওপরের নির্দেশে তিনি সাখাওয়াতকে বরখাস্ত করেছেন। গত ২৩ মার্চের পর থেকে ওই গভীর নলকূপের পানি দেওয়ার দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে। আজ সাখাওয়াতকে বরখাস্ত করা হলো।

ঘটনার দিন সাখাওয়াত হোসেন পুলিশের সামনেই ছিলেন। তখন ওই কৃষক পরিবারের পক্ষ থেকে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে পানি না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করা হয়। তারপরও পুলিশ সাদা কাগজে কৃষক অভিনাথের স্ত্রীর সই নিয়ে অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করে। পরের দিন অভিনাথের স্ত্রী থানায় গিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

আরও পড়ুন

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, সাখাওয়াতের বাড়ি গোদাগাড়ী থানার প্রেমতলী তদন্ত ফাঁড়ির অধীন। ফাঁড়ির পুলিশ গতকাল রাত আড়াইটার দিকে সাখাওয়াতকে গোদাগাড়ী উপজেলার কদমশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গত ২৩ মার্চ গোদাগাড়ীর নিমঘটু গ্রামে সঠিক সময়ে ধানের জমিতে পানি না পেয়ে কৃষক অভিনাথ মারানডি ও রবি মারানডি বিষপান করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ওই দিনই একজনের মৃত্যু হয়। পরের দিন আরেকজন মারা যান। পরে এ ঘটনায় নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন মৃত অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম। মামলার একমাত্র আসামি সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার ও তাঁর শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জাতীয় কৃষক সমিতি। এর আগেও একই দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আরও পড়ুন