খুলনার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে আকিবকে গ্রেপ্তার করে তালা থানার পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক মহিদুল ইসলাম তাঁকে দুই হাজার টাকা বন্ডে জামিনে মুক্তির আদেশ দেন।

সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট উপপরিদর্শক (সিএসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, সৈয়দ আকিবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আকিবকে দুই হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রাজীব রায় চৌধুরী।

তালা থানা সূত্রে জানা যায়, তালা সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে গত রোববার সাড়ে তিন ঘণ্টা ওই কলেজছাত্রকে আটক রেখে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার একটি মামলা করেন। মামলায় সৈয়দ আকিব; উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী; ছাত্রলীগ কর্মী জে আর সুমন, জয় ও নাহিদ হাসানকে আসামি করা হয়।

কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ হাসান তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়ে হঠাৎ মারপিট করেন আকিবসহ অন্যরা। কলেজের পশ্চিম পাশে একটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালান তাঁরা। হাতে–পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেন। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। তারপর বাড়িতে ফোন দিয়ে তাঁরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা–কর্মী।

শোয়েব আজিজ তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি চলতি বছর জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুলনায় কোচিং করছেন।

শোয়েব আজিজের বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ছেলেকে উদ্ধারের পর তালা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর রাতে থানায় এজাহার জমা দিতে গেলে থানার মধ্যেই তাঁকে হুমকি দিতে থাকেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত লোকজন। এমনকি হাসপাতালে গিয়েও হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সোমবার ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি।

তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিবের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়নি। শোয়েব আজিজ তাঁর এক চাচাতো বোনকে ‘থ্রেট’ করেছেন। এ জন্য রাগের মাথায় তাঁকে মারপিট করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদা চাওয়ার কথা ঠিক নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন