গ্রেপ্তার, হয়রানির প্রতিবাদে থানা ঘেরাও গ্রামবাসীর

হয়রানির প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে মানববন্ধন করেন গ্রামের বাসিন্দারা। গতকাল পীরগঞ্জ থানার সামনে
ছবি: প্রথম আলো

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার ছয়টি গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা আড়াই ঘণ্টাব্যাপী থানা ঘেরাও করেন।

উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল, নওডাঙ্গা, সোটাপাড়া, গুড়িপাড়া, শিববাড়ীসহ ছয়টি গ্রামের বাসিন্দা সকাল ১০টার দিকে পীরগঞ্জ থানার সামনে জড়ো হন। একই সময় থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি মানববন্ধন করেন। এ সময় তাঁরা ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করায় গ্রামবাসী পুলিশের হয়রানির প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মধ্য ভবানীপুর গ্রামের মো. সেলিম, আশরাফুল, পূর্ব ভবানীপরের সুমন আলী, শিববাড়ী গ্রামের মকশেদ আলী, মো. শাহীন, ইন্দ্রইল গ্রামের মফিজুর রহমানসহ ১০ থেকে ১২ জন।

বক্তারা বলেন, ভোটে হেরে যাওয়ায় রাতে সদস্য প্রার্থী মোস্তাজুল ইসলামের (ফুটবল) লোকেরা কেন্দ্রে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাজে বাধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আটক করে তাণ্ডব চালান। অথচ পুলিশ প্রকৃত দোষীদের না ধরে গ্রামের নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে গতকাল বিকেল মুঠোফোনে তিনবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোস্তাজুল ইসলাম ফোন ধরেননি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ গুড়িপাড়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলামকে (৫৪) গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রিয়াজুল নির্দোষ। তাঁকে গ্রেপ্তার ছাড়াও পুলিশ রাতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরীহ মানুষকে ধাওয়া করে।

কর্মসূচি পালনকারীদের অভিযোগের বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্দোষ ব্যক্তির কোনো ভয় নেই। পুলিশ যাচাই না করে কোনো আসামি ধরছে না। তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত ২৮ নভেম্বর উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন রাতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যপদের ফল ঘোষণার পর ইন্দ্রইল-শিববাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর উত্তেজিত জনগণ হামলা চালায়।