default-image

বাঁশ-বেত দিয়ে কুলা, চালুন তৈরি করেন পরেশ চন্দ্র দাস। বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসার। পৈতৃক ভিটায় কুঁড়েঘরে থাকেন তিনি। রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট পেতে হয়। স্বপ্ন দেখেন একটি নিরাপদ ঘরের। জুসনা রানী নামে অপর এক নারী পরেশ চন্দ্রেরই প্রতিবেশী। তিনিও দিন আনেন দিন খান। সরকারি একটি ঘরের জন্য তিনিও দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা-তদবির করে যাচ্ছেন।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বহরামপুর ও পারমাঝ গ্রামের এমন কয়েকজন স্থানীয় চেয়ারম্যান এইচ এম কামরুজ্জামানের কাছে সরকারের বরাদ্দ হওয়া ঘর চেয়েছিলেন। তবে তাঁদের ভাগ্যে ঘর জোটেনি। উল্টো এই মানুষগুলোর কাছ থেকে ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যান ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ এমন অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর তিনটি লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ইউএনও।

তিনটি অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সরকারের ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় চেয়ারম্যান এইচ এম কামরুজ্জামান ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষকে ঘর দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও ঘরহীন মানুষেরা ঘর পেতে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এ সময় চেয়ারম্যান তাঁদের জানান, ঘর পেতে হলে টাকা লাগবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়নের পারমাঝ গ্রামের মো. আইয়ুব আলী তাঁর দুটি গরু বিক্রি করে চেয়ারম্যানকে ১ লাখ টাকা দেন। একই সময়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বহরমপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাস ৫ হাজার টাকা, তাঁর প্রতিবেশী জুসনা রানী ৮ হাজার টাকা, মেনেকা খাতুন ১০ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন। এ ছাড়া ঘর পাওয়ার আশায় চেয়ারম্যানকে ঘুষ দিয়েছেন আরও কয়েকজন। টাকা পাওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যান তাঁদের ঘর দেওয়ার বিষয়ে আর কিছুই বলেন না। টাকা ফেরত চাইতে গেলে চেয়ারম্যান সবাইকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ভয়ভীতিও দেখান।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হলে ভুক্তভোগীরা আবার নড়চড়ে বসেন। তাঁরা আবার ঘরের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে ধরনা দিতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভাগ্যে ঘর জোটে না। পরমাঝ গ্রামের আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, ঘর পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি নিজের একমাত্র সম্বল দুটি গরু বিক্রি করে চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়েছেন। তবে ঘর পাননি, এখন টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। টাকা চাইতে গেলে চেয়ারম্যান ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘মেলা মানুষ চেয়ারম্যানকে ঘরের জন্যি টেকা দিচ্ছে শুনে পাঁচ হাজার দিলেম। দিব দিব করে চেয়ারম্যান আর ঘর দিল না। এহন টেকাও দিচ্ছে না।’
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘরের জন্য কারও কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেইনি। এটা আমার বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা তিনটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে অভিযোগকারীরা অভিযোগ করেননি মর্মে আরও দুটি পত্র দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন