ঘুমিয়ে থাকা গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

কুপিয়ে হত্যা
প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করে তাঁর স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোরে উপজেলার নাজিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম রিনা বেগম (৪০)। তাঁর স্বামী হলেন অভিযুক্ত সেকান্দার কাজী (৫০)।

ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজিমপুর গ্রামের সেকান্দার কাজী কৃষিশ্রমিক। সংসারের খরচ মেটাতে স্ত্রী রিনা বেগমকে দিয়ে মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করাতেন। তাঁদের চার সন্তান আছে। অভাব-অনটনের সংসারে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হতো। এ নিয়ে এক মাস আগে সেকান্দার কাজী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। ১৫ দিন ধরে সেকান্দার কোনো কাজ করছিলেন না। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোমতে সংসার চলছিল। এ নিয়ে গতকাল রাতেও স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। আজ ভোরে ঘরের খাটে ঘুমন্ত রিনা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান সেকান্দার। তাঁদের ছেলে সাব্বির এই দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করে। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সেকান্দার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আজ সকাল ৯টার দিকে পুলিশ এসে গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

সেকান্দারের ভাতিজি তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘চাচার সঙ্গে চাচির প্রায়ই ঝগড়া হতো। করোনার মধ্যে তাঁদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চাচা অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। কিন্তু এভাবে চাচিকে হত্যা করবেন, তা ভাবতে পারিনি।’

নিহত রিনা বেগমের ভাই সোহাগ সরদার বলেন, ‘২২ বছর আগে বোনের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের সংসারে অভাব-অনটন চলছে। বিভিন্ন সময় তাদের সাহায্য করতাম। কিন্তু সে এভাবে বোনকে কুপিয়ে মেরে ফেলবে, বুঝতে পারিনি। আমরা তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করব।’

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পরিবারে অভাব-অনটন থাকায় স্বামী-স্ত্রীর কলহ চলছিল। বেশ কিছুদিন ধরে সেকান্দার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। রোববার ভোরে রিনা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে সেকান্দার পালিয়ে যান। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।