সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লামামেউহারী গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ, পাইকুরাটি ও ধর্মপাশা সদর—এই তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ওপর দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। এতে ১৩টি গ্রামের শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি হেলে পড়ায় কয়েকটি গ্রামে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ভাটকপুর, খয়েরদিরচর, হাবিবপুর, মোদাহরপুর, সৈয়দপুর, সিংপুর; পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর, রায়পুর, হিজলা ও ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের লামামেউহারী, নোয়াবন্দ, কামলাবাজ ও আবুয়ারচর গ্রামের শতাধিক কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে। বৈদ্যুতিক তার ছিটকে পড়ায় ও বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ায় উপজেলার জয়শ্রী ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন সব কটি গ্রামে ও উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর, মাইজবাড়ী, বীরদক্ষিণ, ভাটাপড়া ও সলপ গ্রামে গতকাল রাত সাড়ে আটটা থেকে আজ শুক্রবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ধর্মপাশা উপজেলার উপ–আঞ্চলিক কার্যালয়ের টেকনেশিয়ান জয়েন উদ্দিন বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গিয়ে গ্রাহকদের কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সব রকম প্রচেষ্টা অব্যাহত।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামামেউহারী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গণি (৪৫) বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে আমরার ঘরডারে তছনছ কইর্যালছে। অল্পের জন্য আমরা (স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে) বাইচ্ছ্যা গেছি। অহন সরহার থাইক্যা সায্য না ফাইলে নতুন কইর্যা ঘর উডানি সম্ভব অইতো না।’

উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ ওরফে খোকা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

ইউএনও মুনতাসির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।