আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংসদ জাফর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সাংসদ, সেটা ঠিক আছে। একই সঙ্গে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনামতে আমাকে চলতে হবে। আমার মার্কা ছিল নৌকা, পৌরসভায় আলমগীরের মার্কাও নৌকা। দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে নৌকাকে জেতাতে হবে। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, সেটাও জানি।’

১৩ জুন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ জাফর আলমসহ আটজনকে ডেকে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, একজন সাংসদ কোনো প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করতে পারেন না। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, এখন নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত আছে। এ সময়ে আচরণবিধি সেভাবে আরোপিত হয় কি না, বিচার–বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। যদি আইন অনুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়, অবশ্যই সাংসদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।’

১০ জুন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে সাংসদ জাফর আলমকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। অব্যাহতির খবরে চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন সাংসদের অনুসারীরা। অনুসারীদের ঘরে ফেরাতে সাংসদ জাফর আলম বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের গালাগাল করে সমালোচিত হন। ১৩ জুন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ জাফর আলমসহ আটজনকে ডেকে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন। ওই সময় মাহবুব উল আলম হানিফ সাংসদ জাফর আলমকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ভর্ৎসনা করেন। পাশাপাশি গালাগালি করার জন্য সাংসদকেও ভর্ৎসনা করেন।

এরপরই এই কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক, রনজিত দাশ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কমরউদ্দিন আহমদ, চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী। এতে আরও বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

সাংসদ জাফর বলেন, ‘চকরিয়াতে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী হওয়ার সংস্কৃতি ছিল না। কিন্তু ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের ভোটে জয়লাভ করেন ফজলুল করিম। এই সংস্কৃতি পৌরসভা নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে। আমার ভাতিজা জিয়াবুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে আমি সমর্থন দিইনি। কিন্তু তাঁকে কারা কক্সবাজার বদর মোকাম মসজিদে ঢুকিয়ে শপথ করিয়ে প্রার্থী করিয়েছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংসদ জাফর আলমের বিরোধ নিষ্পত্তির পর আবারও ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সাংসদসহ আমরা সবাই নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে এসেছি। পৌরসভা নির্বাচনে কার কী কর্মকাণ্ড, সেটা আমরা ফলোআপ করব। কেউ নৌকার বিপক্ষে কাজ করলে তা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে জানানো হবে।’