ক্রেতারা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। কেনার তালিকায় রয়েছে টুপি, গেঞ্জি, আতর, বেল্ট, জুতা। আবার কেউ কেউ জামা, লুঙ্গিও কিনছেন। শার্ট-প্যান্টও কিনতে এসেছেন অনেকে।

অনেকেই ভিড় জমিয়েছেন পাড়ার দোকানে। সেমাই, চিনি, নারকেল, নুডলসসহ অতিথি আপ্যায়নের নানা পদ কেনাকাটা করছেন। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে গিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের।

নগরের নিউমার্কেট এলাকার জুবিলী সড়কের ফুটপাতজুড়ে বসেছে পোশাক, জুতা, বেল্ট থেকে শুরু বিভিন্ন পণ্যের ভাসমান দোকান। রোজার শেষের দিকে এসব দোকানে বিক্রি জমজমাট হয়ে ওঠে। চাঁদরাতেও ক্রেতাদের ভিড়। সন্ধ্যায় ১২ বছরের ছেলে হামিদুর রহমানকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসেন মো. হারুন। তিনি জানান, ছেলের জন্য জামাকাপড় আগে নিয়েছেন। বাকি ছিল টুপি আর বেল্ট। সেটা নিতে এসেছেন।

বাবার সঙ্গে কেনাকাটা করতে এসে খুশি হামিদুর। বাবা কিনে দিয়েছেন টুপি। সেটি উল্টে–পাল্টে দেখছিল সে। টুপি পছন্দ হয়েছে বলে জানায় সে।

নগরের বাকলিয়া থেকে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন রহিমা খাতুন। তিনি বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। বেতনের টাকা পেয়েছেন একেবারে শেষ মুহূর্তে। আবার যে টাকা পান, তা দিয়ে দামি কিছু কেনা সম্ভব না। তাই ফুটপাতের দোকানে এসেছেন। মেয়ের পাশাপাশি নিজের জন্যও কেনাকাটা করবেন।

default-image

মাদারবাড়ী এলাকা থেকে এসেছিলেন নির্মাণশ্রমিক এনামুল হক। সঙ্গে ছিল ছেলে। তিনি বলেন, যে আয়-রোজগার, তাতে বড় মার্কেটে যাওয়া সম্ভব নয়। ফুটপাতের দোকানই ভরসা। এখন ঘুরে ঘুরে পছন্দের জিনিস নেবেন। বছরে এ রকম আনন্দের দিন তো বেশি আসে না। নতুন কাপড়চোপড় দিলে ছেলে খুশি হয়।

ক্রেতাদের পছন্দের জুতা দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন দোকানি সুমন রহমান। চলছে দর-কষাকষি। এর এক ফাঁকে বলেন, গত দুই বছর একেবারে ব্যবসা হয়নি। এবার মোটামুটি বিক্রি হয়েছে। লোকজনও কেনাকাটা করছেন।

বেল্ট বিক্রেতা বিকাশ শীল বলেন, নিম্ন আয়ের লোকজনের ভরসা ফুটপাতের দোকান। তাঁরা বেতন পান একেবারে শেষের দিকে। তাই এখন ভিড় বেশি হয়।

ফুটপাতের দোকানিরা জানান, তাঁদের দোকানে সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় জুতা পাওয়া যায়। বেল্টের দামও ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। মোটামুটি সামর্থ্যের মধ্যে জিনিসপত্র পাওয়া যায়। শার্ট-প্যান্টের দামও থাকে নাগালের মধ্যে।

চট্টগ্রাম নগরের জুবিলী সড়কের মতো আগ্রাবাদ, এ কে খান গেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ইপিজেড এলাকার ফুটপাতের দোকানেও মানুষের ভিড় রয়েছে। রাতভর কেনাকাটা চলবে বলে জানান দোকানিরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন