তাঁরা দুজনই ছিলেন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাংসদ আবদুল মান্নানের ঘনিষ্ঠ। এর মধ্যে আলমগীর শাহী গতবার সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। আর মতিউর রহমান সারিয়াকান্দি পৌরসভার টিকাদান সহকারী পদে চাকরি করলেও রাজনীতিতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ পান।

স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত এই দুজন এবার সারিয়াকান্দি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থী। তবে ‘নৌকার মাঝি’, অর্থাৎ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মতিউর রহমান। ইতিমধ্যে তিনি সারিয়াকান্দি পৌরসভার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আলমগীর শাহী দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী (নারকেলগাছ)। তিনি প্রয়াত সাংসদ আবদুল মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাংসদ ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়ান তিনি।

এই দুই প্রার্থী ছাড়াও মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রয়াত টিপু সুলতানের স্ত্রী ছাবিনা ইয়াসমিন (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলী আজগর (জগ প্রতীক)।  
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রার্থী ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন ও ৩টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১১ জন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রয়াত সাংসদ এবং তাঁর স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমানে সাংসদ সাহাদারা মান্নানের সঙ্গে বিরোধ জড়ান আলমগীর শাহী। এর জেরে ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে জেলায় চিঠি পাঠায় উপজেলা আওয়ামী লীগ। গত বছর সাংসদ আবদুল মান্নানের মৃত্যুর পর এ আসনে তাঁর স্ত্রী ও সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান সাংসদ হন। আলমগীর শাহীর সঙ্গে বর্তমান সাংসদের বিরোধ তুঙ্গে।

এর জেরে ৩ ডিসেম্বর সারিয়াকান্দি পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বর্তমান মেয়র আলমগীর শাহীকে বাদ দিয়ে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সাতজনের নাম সুপারিশ করে জেলা আওয়ামী লীগে পাঠানো হয়। এরপরও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে দ্বিতীয় দফায় পৌরসভা নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীদের নামের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে আলমগীর শাহীর নাম ছিল। তবে রাতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হলেও সকালে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পান সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান।

কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের চাপেই প্রার্থী হয়েছি। প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন, মাইক ভাঙচুর করছেন, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন। অবাধ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত ভোট হলে তাঁর জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
আলমগীর শাহী, বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী
default-image

আলমগীর শাহী বলেন, কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের চাপেই প্রার্থী হয়েছি। প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন, মাইক ভাঙচুর করছেন, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন। অবাধ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত ভোট হলে তাঁর জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
চাকরি থেকে ইস্তফা বিধিসম্মত হয়নি, এমন কারণ দেখিয়ে যাচাই-বাছাইয়ে মতিউর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আপিল করে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে ফিরেছেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, প্রয়াত সাংসদ আবদুল মান্নান স্বপ্নের সারিয়াকান্দি পৌরসভা গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু আলমগীর শাহীর কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নির্বাচিত হয়ে ‘স্বপ্নের সারিয়াকান্দি’ গড়তে চাই। ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনও রয়েছে তাঁর প্রতি। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া বলেন, প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন। যখনই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচিত হয়ে ‘স্বপ্নের সারিয়াকান্দি’ গড়তে চাই। ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনও রয়েছে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
মতিউর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী
বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন