রাজশাহীর চারঘাটে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনের পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে আজ শনিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাঁদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা চারঘাট প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজশাহী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। হামলায় চারঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ বর্তমান মেয়র ও বিএনপির প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মেয়রের আত্মীয়–স্বজনসহ চারজনকে আটক করেছে। সংঘর্ষের পর চারঘাটে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আহত ছাত্রলীগ নেতা আল মামুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আল মামুন প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি বিএনপির কর্মীদের ছুড়ে মারা দুই দিকে ধারওয়ালা একধরনের অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা ককটেল ও গুলি ছুড়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বিএনপির কর্মীদের হামলায় তাঁদের মোট চারজন আহত হয়েছেন। তিনি ছাড়া অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষের পর পুলিশ বর্তমান মেয়র ও বিএনপির প্রার্থী জাকিরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে জিয়ারুল ও জিনারুল, বোনের ছেলে কমল ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী শামীমকে আটক করে। জাকিরুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁর সাতজন কর্মী আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পর আজ সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পোস্টার লাগানোর জন্য কর্মী–সমর্থকদের ডেকেছিলেন। তাঁরা যাওয়ার আগেই উৎসাহী কয়েকজন ছেলে পোস্টার লাগাতে চলে যান। আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তাঁরা তাঁদের ওপর শ খানেক রামদা, হাসুয়া ও লাঠি নিয়ে হামলা চালান। ককটেল ছুড়ে মারেন।

default-image

পুলিশ জানায়, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পোস্টার লাগানো নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। এরপর বিএনপির সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চারঘাট বাজারের পূর্ব দিকে জড়ো হন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে নৌকার প্রার্থী একরামুল হকের সমর্থকেরা একইভাবে হাসুয়া, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চারঘাট বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে বের হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের সশস্ত্র মহড়ায় চারঘাট বাজারের লোকজন দোকানপাট বন্ধ করে পালাতে শুরু করেন। চারঘাট হাটবার হওয়ার কারণে হাটুরেরাও হামলার ভয়ে ছুটে পালাতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চারঘাট বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

চারঘাট প্রেসক্লাবে কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ছবি তোলা হচ্ছে এই অভিযোগে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা প্রেসক্লাবে ইট ছুড়ে মারেন। তাঁরা ভেতরে ঢুকে যাওয়ার কারণে রক্ষা পান। এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে রিজার্ভ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

সংঘর্ষ চলাকালে চারঘাট থানার পুলিশ কার্যত নীরব ছিল। এ ব্যাপারে চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর থানার সব পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্বে বাইরে গেছেন। তিনিসহ থানায় মাত্র সাতজন সদস্য ছিলেন। তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে কোন পক্ষ ককটেল ছুড়েছে, পুলিশ বুঝতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরাই সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা করেছেন। বিএনপির চার সমর্থককে আটক করা হয়েছে। আহত ছাত্রলীগ নেতা মামলা করবেন বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন