বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রকল্প এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আজ সোমবার সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সেখানে ১৫টি ইউনিট কাজ করছে ১০ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি লোকজন। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা লোকজনকেও পৃথক করে নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই ইউনিটের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, সম্প্রতি ভারতে ছুটি কাটিয়ে সে দেশের অনেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা করোনা অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত কি না, তা নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার পর জানা যাবে।

প্রকল্পের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে ১০ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি লোকজন। একটি ইউনিটে গত চার দিনে দেশি-বিদেশি মিলে ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

সিভিল সার্জন বলেন, তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা, আইসোলেশন সেন্টার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক রয়েছেন। এরপরও প্রকল্পের ভেতর কর্মরত কোনো লোকজন যেন বাইরে যেতে এবং বাইরের কেউ যেন ভেতরে ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদারকির জন্য মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। করোনার নতুন হটস্পট মাতারবাড়ী প্রকল্পে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পুরো কক্সবাজার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টার পরীক্ষা হয়েছে ৫১৬ জনের নমুনা। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জনের। তার মধ্যে মহেশখালীরই ৩৮ জন। আক্রান্ত সবাই মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত।

আগের দিন ৮ জানুয়ারি ওই প্রকল্পে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জনের, ৭ জানুয়ারি ৮ জনের এবং ৬ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ জনের।

প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বৃহৎ মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ৬৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট অর্থাৎ ৬০০ মেগাওয়াট এবং একই বছরের জুলাইতে দ্বিতীয় ইউনিট আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। আর ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন