default-image

কুমিল্লা নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর বাড়ির সামনের কবির স্মৃতিবিজড়িত ফলকটি চার বছর আগে ভেঙে ফেলে একটি ট্রাক। ওই সময়ে ফলকটি লাগানো হয়নি। উল্টো শনিবার ফলকের নিচের অংশ সরিয়ে ফেলা হয়। এতে নজরুলভক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় গতকাল রোববার ফলক লাগানোর কাজ শুরু হয়।

কুমিল্লা নজরুল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২১ সালের এপ্রিল থেকে ১৯২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দফায় ১১ মাস কুমিল্লায় ছিলেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন বাড়িতে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আড্ডা দিতেন এবং সংগীতচর্চা ও কবিতা আবৃত্তি করতেন। গান ও কবিতা লিখতেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা শহরের ঝাউতলা, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে, নজরুল অ্যাভিনিউ, ফরিদা বিদ্যায়তন, দারোগা বাড়ি, ঝানু মিয়ার বাড়ি, শচীন দেববর্মনের বাড়ি, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার ও প্রমীলার বাড়ি ও মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুরে বসে সংগীত চর্চা করেছেন ও কাব্য রচনা করেছেন। সংস্কৃতিপ্রেমীদের সঙ্গে মিশে গান গেয়েছেন। তিনি দুটি বিয়েও করেছেন কুমিল্লায়। কবির স্মৃতি রক্ষার জন্য ১৯৮৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল স্মৃতিরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে এসব স্থানে স্মৃতিফলক বসানো হয়। এরপর আর সেগুলো সংস্কার করা হয়নি।

কবি নজরুলের স্মৃতিফলকগুলো সংরক্ষণ করা হবে। এ জন্য সিটি করপোরেশন, নজরুল ইনস্টিটিউট, নজরুল পরিষদসহ আমরা সবাই মিলে কাজ করব।
আবুল ফজল মীর, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক

২০১৭ সালে নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার একটি ফলক ট্রাকচাপায় ভেঙে যায়। এরপর সেটি লাগানো হয়নি। গত শনিবার ওই এলাকার কয়েক ব্যক্তি ফলকের নিচের অংশ সরিয়ে ফেলেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংস্কৃতিকর্মীরা। গতকাল সকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ওই ফলকের সংস্কারকাজ শুরু করে। ওই কাজ পরিদর্শন করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মঞ্জুর কাদের।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, ‘কবি নজরুলের স্মৃতিফলকগুলো সংরক্ষণ করা হবে। এ জন্য সিটি করপোরেশন, নজরুল ইনস্টিটিউট, নজরুল পরিষদসহ আমরা সবাই মিলে কাজ করব।’

এর আগে সিটি করপোরেশন ভিক্টোরিয়া কলেজ ও নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার বসন্ত পাঠাগার এলাকার ফলক সংস্কার করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন