বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কর্মকর্তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে: করোনার সময়ে অফিস সময় নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত নির্ধারণ, কর্মকর্তাদের উচ্চতর স্কেল প্রদান, নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি প্রদান, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ স্থগিত, আইসিটিবিষয়ক শাখার পদোন্নতি জটিলতা নিরসন, লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে অসম পদোন্নতির সমাধান, প্রতিটি দপ্তর ও শাখার কর্মকর্তাদের অফিস প্রধানের মর্যাদা প্রদান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের কার্যক্রম চালু, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান, সপ্তম থেকে উচ্চতর পদে নিয়োগে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নীতিমালা অনুসরণ, প্রয়াত ডেপুটি প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তার স্ত্রীকে চাকরি প্রদান, ৪ শতাংশ হারে গৃহঋণ প্রদান, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, সব কমিটিতে কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা, শান্তি ও বিনোদননীতি অনুসারে ১৫ দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা এবং অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নতুন যোগদান করা দুজনের পদোন্নতি বিলুপ্ত করা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, শনিবার সকালে ক্যাম্পাসে এসেই শিক্ষক-কর্মকর্তারা জানতে পারেন, উপাচার্য ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। এতেই তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁরা নিজ নিজ কার্যালয় ছেড়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হন। সকাল ১০টার দিকে তাঁরা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যের হুট করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রারের জানতে চাওয়া হয়। এ সময় রেজিস্ট্রার এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রারকে কার্যালয় থেকে বের করে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তারা বলেন, আগামী ৬ মার্চ উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগেই তিনি শিক্ষক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতায় সভা স্থগিত করেন উপাচার্য। পরে নিজেই ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু সেই সভা না করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের সামনে মুলা ঝুলিয়ে রেখেছেন উপাচার্য। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আশ্বাস দিলেও, নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া কোনোটারই সমাধান করেননি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। তাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১৭ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) বিজন কুমার ব্রহ্ম প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্যের নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার নেই। আমাকে কার্যালয় থেকে বের হতে বলা হয়েছিল। আমি বের হয়ে চলে আসছি। তারপর থেকে কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে।’

আগামী ৬ মার্চ উপাচার্য রুস্তম আলীর দায়িত্বকালের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম সভা আহ্বান করা হয়েছিল। সভায় ৬১টি আলোচ্যসূচির মধ্যে ৪২টি ছিল নিয়োগ-সংক্রান্ত। উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

স্বজনপ্রীতি করে উপাচার্য এম রুস্তম আলী তাঁর ভাতিজিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি দিয়েছেন বলে সভায় অভিযোগ তোলেন রিজেন্ট বোর্ড সদস্যরা। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম সভায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানান বোর্ডের সদস্যরা। এতে উপাচার্য ক্ষিপ্ত হয়ে রিজেন্ট বোর্ডের সভা স্থগিত করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হন পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর পাবনা-১ আসনের সাংসদ ও রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য শামসুল হকের সমঝোতায় ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের পরবর্তী সভার দিন ধার্য করা করেন।

এর ১৩ দিন পর গত বুধবার রাত আটটার দিকে উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসেন। ওই দিন রাতেই ক্যাম্পাসের মূল ফটকে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। রিজেন্ট বোর্ড না করেই অনেকটা চুপিসারে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য রুস্তম আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন