বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা এতটা কমে যাওয়ার রেকর্ড নেই। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার কারণে এখানে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে আজ শৈত্যপ্রবাহের কারণে চুয়াডাঙ্গা শহরে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে। তবে শহরের নতুন ও পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেশ ভিড় দেখা গেছে।শীতের পোশাক কিনতে আসা রমজান আলী বলেন, হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় শীতের পোশাকের দাম একলাফে বেড়ে গিয়েছে। দোকানিরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। ফলে শীতের নতুন পোশাক কেনা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সুপার মার্কেটের নৈশপ্রহরী আলমাস আলী বলেন, ‘হটাত (হঠাৎ) কইরেই রোববার রাইত থেইকে খুপ (খুব) শীত পড়চে। অ্যারাম (এরকম) শীত অনেক দিন পড়িনি। রাতি দর্জির দোকানের ছিটির টুকরো জ্বালিয়ে রাইত পার করিচি।’

default-image

জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার প্রথম আলোকে জানান, সরকারিভাবে জেলায় প্রায় ২১ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ব্র্যাক থেকে ৩৫০টি কম্বল উপহার পাওয়া গেছে এবং আরও ৯৫০টি কম্বল কেনা হয়েছে। এ ছাড়া শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা করে ২৮ লাখ টাকা ও ৪ পৌর মেয়রের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা করে ৮ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ মিলেছে। শিগগিরই এই অর্থ শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এদিকে সম্প্রতি ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকেরা আলু, বোরো ধান ও ধানের বীজতলা, পেঁয়াজ, মসুর, সবজিসহ মাঠের ফসল নিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। সেই ধাক্কা সামাল দিতে না দিতেই শীতের তীব্রতা তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, হঠাৎ তাপমাত্রা নেমে যাওয়া এবং শৈতপ্রবাহের কারণে ধানের বীজতলা নিয়ে চাষিরা আবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এদিকে সদর হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের পরামর্শক আবুল হোসেন জানান, তাপমাত্রার আকস্মিক কমে যাওয়ায় যাদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ আছে, এমন রোগী ও হৃদ্‌রোগীদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। শিশুদের ঘরের মধ্যে রাখতে হবে। শীতের কারণে রোটাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন