বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে বিজিবির অভিযানে ১৭ দিনের ব্যবধানে সোনার দুটি বড় চালান ধরা পড়ে। ৭ ডিসেম্বর দর্শনা থানার মেমনগর এলাকা থেকে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের এবং ২৪ ডিসেম্বর দর্শনা থানার রামনগর এলাকা থেকে ২ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার বার জব্দ করে বিজিবি। চালান দুটি ধরার পেছনে হজরত আলী বিজিবিকে সহায়তা করেছেন—এমন ধারণা করে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে।

নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গতকাল রাতে হজরত আলী নিজ ঘরের চৌকির ওপর এবং স্ত্রী নারগিস খাতুন মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। ঘরের জানালা খোলা ছিল। রাত একটার দিকে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে হজরত আলীর মাথায় একটি গুলি করে।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহরাব হোসেন বলেন, রাত দেড়টার দিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ হজরত আলীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মাথায় একটি গুলির ক্ষত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রাত তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই মো. আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই দুই বছর ধরে বিজিবির সোর্স হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। মো. আলাউদ্দিনের দাবি, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে গ্রামের কারও বিরোধ ছিল না। বিজিবির সোর্স হিসেবে কাজ করায় চোরাকারবারিরা ‘পেশাদার খুনি’ দিয়ে তাঁকে হত্যা করিয়েছে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, বিজিবির সোর্স হওয়ায়, নাকি অন্য কোনো কারণে হজরত আলী খুন হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চলছে।

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হজরত আলী যে বিজিবির সোর্স, সেটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের পরিচালক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘হজরত আলী আমাদের সোর্স, সেটা ঠিক আছে। তবে সোর্স হওয়ার কারণে এত বড় ঘটনা ঘটবে, এটা হিসাবে মিলছে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন