কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য কে এম বাচ্চু বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা চারজন ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় দেখতে পাই ডলফিনটি এপাশ-ওপাশ করে ছটফট করছিল। আমরা কাছে গিয়ে আদর-যত্ন করে চারবার এটিকে সাগরের পানিতে ভাসিয়ে দিই। কিন্তু বারবার ডলফিনটি কিনারায় ফিরে আসছিল। আমাদের চোখের সামনে ছটফট করতে করতে দুই ঘণ্টা পর এটি মারা যায়। আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না, অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। চোখের সামনে বন্ধু প্রাণী ডলফিনের এ রকম করুণ মৃত্যু দেখে আমরা খুব ব্যথিত হয়েছি।’

default-image

উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সাগরের নীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ প্রকল্পের পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সাতজন লোক দিয়ে ডলফিনটি তুলে কুয়াকাটায় নিতে চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারিনি। স্থানীয় লোকজন ধারণা করে বলছেন, এটির ওজন ১০০ কেজির মতো হতে পারে।’ তিনি বলেন, মৃত ডলফিনটি তাঁরা আলীপুর মৎস্য বন্দরের ল্যান্ডিং স্টেশনে নিয়ে যাচ্ছেন। আজ আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দিবস। এ দিবস উপলক্ষে ডলফিনটি সর্বসাধারণের দেখার জন্য প্রদর্শন করা হবে। এরপর ডলফিনটির মৃত্যুর কারণ জানতে এটিকে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে লোকজন পাঠিয়েছেন তিনি। ডলফিনটি নিয়ে কী করা যায়, তা ভাবা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন