default-image

চোখ উপড়ে ও কুপিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মিলন সরকার (৮০) নামের এক গ্রাম্য সরদারকে হত্যার ৬২ ঘণ্টা পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত মিলন সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি করা হয়। তবে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মামলাটি নথিভুক্ত হয়নি। গতকাল আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করে র‍্যাব।

নিহত মিলন সরকারের ছেলে বাবুল সরকার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ৬১ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। এজাহারটি দিয়েছেন তাঁর ভাই মোমিন সরকার।

নিহত মিলন সরকার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গৌরনগর গ্রামের সরকার বাড়ির প্রধান ও গ্রামের সরদার ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৩ সাল থেকেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সরকার বাড়ি ও আজইরা বাড়ির লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০১১ সালে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে সরকার বাড়ির প্রবাসী রবিউল ইসলামকে (৩৫) হত্যা করেন। তাঁর শরীরের সব অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার বাড়ির লোকজন প্রতিপক্ষের দুলাল মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে হত্যা করেন। দুলালের সারা মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ক্ষত ছিল। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে সরকার বাড়ির প্রধান মিলন সরকারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সরকার বাড়ির নেতৃত্বে ছিলেন মিলন সরকার এবং আজইরা বাড়ির নেতৃত্বে আছেন আব্বাস উদ্দিন ও কাউসার মোল্লা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন সরকার বাড়ির সরদার মিলনকে নদীর পাড়ে একা পেয়ে তাঁর ওপর নৃশংস হামলা চালান। তাঁরা মিলনের দুটি চোখ উপড়ে ফেলেন এবং তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রানা নুরুস শামস বলেন, ‘মিলন সরকারের দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। আমরা আইবলে চোখ খুঁজে পাইনি। তাঁর মুখের বাঁ দিকে চোয়ালসহ ভেঙে গেছে ও জিহ্বায় আঘাত লক্ষ করা গেছে। লোকটির মাথার সামনে ও পেছনে আঘাতের চিহ্ন এবং মাথার সামনের অংশ থেতলে গেছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর থেকে মামলার জন্য নিহত মিলন সরকারের পরিবারকে বারবার বলা হয়েছিল। আজ দুপুরে তাঁরা এজাহার জমা দিয়েছেন। মামলাটি প্রক্রিয়াধীন। ১৫ জনকে আটকের বিষয়টি র‍্যাব জানিয়েছে। তবে তাঁদের এখনো থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন