বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন ও মহানগর শাখা ছাত্র ফেডারেশন নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রতীকী লাশের মিছিল বের করার ঘোষণা দিয়েছিল। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা চত্বর থেকে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট অভিমুখে এই মিছিল নিয়ে যাওয়ার কথা। কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়ো হন। এ সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। এর মধ্যে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেনের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডের সরকারবিরোধী স্লোগান নিয়ে কয়েকজন সহকারী প্রক্টর আপত্তি তোলেন। এ সময় সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমান মহব্বত হোসেনকে বকাবকি করেন।

একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমান পাশে থাকা কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা কী করো? কী করার জন্য আসো? শুইয়ে দিবা...।’ এ সময় সহকারী প্রক্টর আরিফুর রহমান, এ বি এম সরোয়ার আলম প্রমুখ সেখানে ছিলেন। তাঁরা মহব্বত হোসেনকে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে যান। এতে ছাত্র ফেডারেশনের মিছিলের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘তার প্ল্যাকার্ডে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত কথা ছিল। সে নিজেই পরে বলেছে প্ল্যাকার্ডের ব্যাপারে সে অনুতপ্ত। তার একটা মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। আর তার মাস্টার্স শেষ হয়ে গেছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই তো তার ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার কথা।’

ছাত্রলীগে নেতাদের মহব্বত হোসেনকে মারধর করার নির্দেশে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রক্টরের ভবনে নিয়ে দেড় ঘণ্টা রাখার পর লিখিত মুচলেকা নিয়ে মহব্বত হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশনের নেতা মহব্বত হোসেন বলেন, ‘তাঁরা আমার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আমাকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহকারী প্রক্টর মোখলেসুর রহমান স্যার আমাকে মেরে শুইয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী বলেন, ‘মহব্বত হোসেনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার সময়ে আমি অফিসে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাই এ বিষয়ে আমি এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। সেখানে মূলত অন্যান্য শিক্ষকই (সহকারী প্রক্টর) ছিলেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন