রাসেলের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার গেদুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বনগাঁওয়ের বরুয়াল গ্রামে। বাবা জসিমউদ্দিন পেশায় কৃষক। রাসেলের মৃত্যুর খবরটি জসিমউদ্দিনকে জানানো হয়নি। তিনি এখনো ছেলের ফেরার পথ চেয়ে আছেন।

রাসেলের বাবা জসিমউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রাসেল বড়। রাসেলের বোন হিরা আক্তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আর ছোট ভাই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ২০১৭ সালে রাসেল রানীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে ইতিহাস বিষয়ে সম্মানে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ শেষে দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতেই করোনায় স্থবির হয়ে যায় তাঁর লেখাপড়া। বাড়িতে বসে থেকে ক্লান্ত রাসেল মাস ছয়েক আগে কম্পিউটার বিষয়ে কোর্স করার জন্য ঢাকা চলে যান। সেখানে থেকে নিজে উপার্জনের আশায় মগবাজারের বেঙ্গল মিটে কাজ নেন। সেই কাজে যোগ দেওয়ার ছয় দিনের মাথায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হন তিনি।

২০১৭ সালে রাসেল রানীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে ইতিহাস বিষয়ে সম্মানে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ শেষে দ্বিতীয় বর্ষের শুরুতেই করোনায় স্থবির হয়ে যায় তাঁর লেখাপড়া।

রাসেলের মৃত্যুর পর আজ বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ফয়সালের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘রাসেলের মৃত্যুর খবরটি তার পরিবারকে জানানো হয়নি। ঘটনার দিনে চাচার (রাসেলের বাবা) সঙ্গে রাসেলের কথা হয়েছে। সে সুস্থ হয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরতে সবার দোয়া চেয়েছিল। সে সময় রাসেল বলেছে, অনেক দিন দেখা হয় না। সবাইকে দেখতে মন চায়। মা রিনা আক্তার কেঁদে উঠলে উল্টো রাসেলই তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছে, “আমি ভালো আছি। শিগগিরই ফিরে আসব।”’

আজ সকালে মুঠোফোনে রাসেলের মা রিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘বজলু ভাই বলেছেন, রাসেল ভালো আছে। লকডাউন শেষ হলেই আমরা দেখতে যাব।’

রাসেলের আহত হওয়ার খবর পেয়ে ঢাকা যান রাসেলের চাচা মেদেনীসাগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক বজলুর রহমান। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘রাসেলের ফোনের কললিস্টে থাকা আমার নম্বরে ফোন দিয়ে তার আহত হওয়ার কথাটি জানানো হয়। আমি ঢাকায় ছুটে আসি। তার মধ্যে বাঁচার আকুতি দেখেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরে গেল। হাসপাতালে প্রক্রিয়া শেষে আজ রাতের মধ্যেই লাশ নিয়ে হরিপুর ফিরব।’

হরিপুর উপজেলার গেদুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ বলেন, ‘রাসেলের জন্য কষ্ট হচ্ছে। ওর মধ্যে নিজেই কিছু করে বড় হওয়ার চেষ্টা ছিল। তাই করোনায় লেখাপড়া বন্ধ থাকার সময়টাতে কম্পিউটার বিষয়ে লেখাপড়া করতে ঢাকা চলে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে একটি বেকারিতে কাজও শুরু করেছিল। সেখানে এভাবে মারা যাবে, কেউ ভাবতে পারেনি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন