বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কফিল উদ্দীন শেখ অভিযোগ করেন, একই এলাকার সাহেবখালী এলাকার মামুন কয়াল, আজিজুল গাজী, রফিকুল কয়াল, সোহরাব গাজী, জয়াখালী গ্রামের আবু মুসা ও রুহুল আমিন গাজী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাঁরা চোরাই পথে সীমান্ত নদী অতিক্রম করে মাদকসহ বিভিন্ন মালামাল পাচার করে থাকেন। তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পুত্র রতন শেখ। তিনি নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি উল্লিখিত ব্যক্তিরা রতন শেখকে অবৈধ পথে ভারতে পাঠানোর কথা বললে তিনি রাজি হননি। তাই তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। অপহরণের কয়েক দিন পর ওই চক্রের সদস্য আবু মুসা এলাকায় এসে প্রচার করেন, তাঁর ছেলে রতন সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মারা গেছেন। এ বিষয়ে পুলিশকে বললে সপরিবার হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পরে সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে আদালতে একটি মামলা করেন।

কফিল উদ্দীন শেখ বলেন, মামলা দায়েরের পর সাক্ষীদের খুন-জখম করাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মামলার সাক্ষীরা ২১ আগস্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একপর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে এই মামলার সাক্ষী ফজলুল হক ও তাঁর ছেলে অহিদুজ্জামানকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখান থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এই মামলা তুলে নিতে আসামিরা মামলার তাঁকে (বাদী) খুন–জখমের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

কফিল উদ্দীন শেখ আরও বলেন, মামলার কোনো আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। অথচ আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ সময় তাঁর সন্তান হত্যাকারী চোরাকারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী গ্রামের মামুন কয়াল বলেন, রতন শেখসহ তাঁরা ৮-১০ জন সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে গরু চোরাচালান করতেন। ২০ জানুয়ারি রতন শেখ, মিজানুর রমজান ও আবু মুছা সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ভারতে যাচ্ছিলেন গরু আনতে। সুন্দরবনের ভেতর বাঘের আক্রমণে রতন শেখ ও মিজানুর রহমান নিহত হন। অথচ এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে হত্যা করা হয়েছে।
মামুন কয়াল বলেন, ওই মামলার সাক্ষী সাত-আটজন। তিনি তাঁদের কাউকে মারধর করেননি কিংবা হুমকি-ধমকি দেননি। ফজলুল হক তাঁকে (মামুন) কিছুদিন আগে বেধড়ক মারপিট করেন। মামলার সাক্ষী হওয়ার জন্য নয়, প্রতিশোধ নিতে তাঁকে মারপিট করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুর্শিদ জানান, মারপিটের ঘটনায় থানায় ফজলুল হকের ছেলে ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন