বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুই বোনের পৈতৃক বাড়ি নিমাইচরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। তাঁদের প্রয়াত বাবা আবদুর রহিম মোল্লা একসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাঁদের বড় ভাই জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। বাবা ও ভাইয়ের আদর্শকে লালন করেই দুই বোন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন।

সুলতানা জাহান বৈবাহিক সূত্রে অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এইচএসসি পাস সুলতানা বর্তমানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন। ছোট বোন নূরজাহান বেগমের নিজ গ্রামেই বিয়ে হয়। তিনি ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করে ইউনিয়নের মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। স্বামী রফিকুল ইসলামও একই কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি নূরজাহান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান দুই বোন জানান, ছোটবেলায় তাঁরা সাত ভাইবোন বাবার মুখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনতেন। সেই থেকেই সবাই হৃদয়ে ‘জয় বাংলা’ লালন করেন। পরবর্তী সময়ে সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। মানুষের সেবা করতেই দুই বোন জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছেন। জনগণ তাঁদের প্রতি আস্থা রেখে নির্বাচিত করেছেন। এখন মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সেবা করতে চান।

সুলতানা জাহান বলেন, ‘ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গেছে। এখন আর আমার কিছু চাওয়ার নেই, পাওয়ারও নেই। এলাকার মানুষ আমাকে সম্মান দিয়ে চেয়ারম্যান করেছেন। আমি তাঁদের পাশে থেকে সেবা করতে চাই। তাঁদের দেওয়া সম্মানকে সম্মান দিতে চাই।’

নূরজাহান বেগমও বড় বোনের মতোই বলছেন, জনগণের সেবক হতেই রাজনীতিতে আসা। তাঁদের দুঃখ–দুর্দশায় পাশে থাকতে চান।

অষ্টমনিষা ইউনিয়নের অষ্টমনিষা গ্রামের ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, সুলতানা পরীক্ষিত চেয়ারম্যান। তিনি আগেও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার আরও ভালো করবেন বলে সবার প্রত্যাশা।

নিমাইচরা ইউনিয়নের মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাই সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষক হিসেবে নূরজাহান বেগম সফলতা দেখিয়েছেন। তিনি ক্লাসে একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি অনেক ভালো করবেন এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিকভাবেই তাঁরা এলাকার মানুষের কাছে বেশ প্রিয়। রাজনৈতিকভাবেই দুই বোন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও সততার কারণেই জনগণের ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। দুই বোন সফল চেয়ারম্যান হবেন বলেই মনে করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন