বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সূত্রটি আরও জানায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৯টি কৃষি ব্লকে ১৯ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকার কথা। এর মধ্যে ৮টি পদে তিন বছর ধরে কর্মকর্তা নেই। যে আটটি ব্লকে কৃষি কর্মকর্তা নেই, সেগুলো হচ্ছে পিতাম্বর্দী, আধারা, নায়েরগাঁও, খিদিরপুর, কালিকাপুর, নারায়ণপুর, নওগাঁও ও করবন্দ। এ আট ব্লকে কৃষক আছেন ১৯ হাজার ১৭৬ জন।

পিতাম্বর্দী এলাকার কৃষক লোকমান হোসেন বলেন, মাসখানেক আগে তাঁর সবজিখেতে পোকা আক্রমণ করে। পরামর্শের জন্য তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার খোঁজ করে তাঁকে পাননি। পরে শোনেন এ এলাকায় কর্মকর্তা নেই। পরে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে উপজেলার কৃষি কার্যালয়ে গেছেন। সেখান থেকে পাওয়া পরামর্শ অনুযায়ী খেতে ওষুধ দিয়েছেন। কিন্তু এসব করতে করতে অনেক সবজি নষ্ট যায়।

নওগাঁও এলাকার কৃষক শাহ আলম বলেন, এলাকায় কৃষি কর্মকর্তা না থাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ পাচ্ছেন না। বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণের কথা প্রায়ই জানতে পারেন না। সবচেয়ে বড় অসুবিধা হয়, রোগবালাই দমনে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ফলে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বারগাঁও ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী আনোয়ার বলেন, তিনি নিজ ব্লকের দায়িত্ব ছাড়াও পিতাম্বর্দী ও আধারা ব্লকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একজনের পক্ষে তিনটি ব্লকের দায়িত্ব পালন কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এতে কোনো কাজই ভালোভাবে করা যায় না। শূন্য পদে কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ জরুরি।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আয়েত আলী বলেন, মতলব পৌর এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ছয়টি পদ বিলুপ্ত করে ২০১৪ সালে একটি পদ করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তার পক্ষে ওই ছয় পদের কাজ করা অসম্ভব। পৌর এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার আরও পদ সৃষ্টি করা দরকার।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মতলব উত্তর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তার বেশ কটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় কৃষি কার্যক্রমে গতি নেই। শূন্য পদে কর্মকর্তা দেওয়ার জন্য একাধিকবার জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন