বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা লবণ পানিতে ডুবে আছে। এ কারণে এলাকায় যাঁরা মারা যাচ্ছেন, মুসলমানদের চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে তাঁদের সমাধি করে দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে স্বজনেরা। জলাবদ্ধতা ও করোনা এ অঞ্চলের মানুষকে দুর্বিষহ অবস্থায় ফেলেছে। মানুষের জীবনযাত্রা জোয়ার-ভাটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয় লোকজনকে তটস্থ থাকতে হয় সব সময়। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বিচ্ছিন্ন। চিকিৎসা, স্যানিটেশন, সুপেয় পানিসহ বিভিন্ন সংকটে বিপর্যস্ত উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ।

২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং ২০২১ সালের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলার আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে আঘাত হানে।
default-image

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান প্রতাপনগর ইউনিয়নের দরগাতলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সাবিয়া খাতুন। আম্পানের পর থেকে হাবিবুর রহমানের পরিবার মাচা করে বসবাস করে আসছেন। চারদিকে পানি থাকায় সাবিয়ার মরদেহ দাফন করা হয় দূর গ্রামে। একইভাবে উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মাহমুদুল হাসান (৩৫) জুলাই মাসে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পূর্ণিমার ভরা জোয়ারে গ্রামের চারদিকে পানি থই থই করায় মাটির ওপর কোনো রকম পলিথিন বিছিয়ে ইট গেঁথে সমাধি তৈরি করে দাফন করা হয় তাঁকে। কয়েক দিন পর লাশ পচে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরদোর, জাগা-জমি সব শেষ। ভাসি, পুড়ি আশ্রয় নিছি একটা দোকানঘরে। আমরা ভাটি হলি জাগি, আবার জোয়ার হলি ডুবি। এভাবে আর কত দিন থাকপ। বউ-বাচ্চানে আর পাত্তিছিনি। এবার ভাবতেছি চুলি যাব নড়াইলি। বাপ–দাদার ভিটিমাটি সব গেছে। দেড় বছর হতি যাচ্ছে ডুবি মরতিছি। বাঁধ হবার নাম নেই। বাঁধটাধ হলি আবার আসব।’

২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং ২০২১ সালের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলার আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে আঘাত হানে। আম্পানে গৃহহীন মানুষ বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই আবার আঘাত হানে ইয়াস। আম্পানের পর থেকে এখনো অনেক পরিবার বাড়ি ফিরতে পারেনি। এ সংখ্যা আরও বেড়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন