default-image

মাথার ওপরে আকাশ। সীমান্তের¯ওপারে সারি সারি সবুজ পাহাড়। নিচে জল-পাথরের শয্যা। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা কুলকুল ঠান্ডা পানি বয়ে যাচ্ছে অবিরাম। সে পানিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পর্যটকেরা। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদা পাথর’ মানেই এমন দৃশ্য। জল-পাথরের টানে যেমন এখানে দেশ-বিদেশের মানুষ ছুটে আসছেন, তেমনই সিলেটের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ঘিরেও রয়েছে অন্য ধরনের এক অমোঘ মায়াবী টান।

সাদা পাথর ছাড়া পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জল-পাথরের নদীখ্যাত বিছনাকান্দি, মিঠাপানির একমাত্র জলারবন রাতারগুল ও বহুমুখী সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে এসব কেন্দ্রে সৌন্দর্য উপচে পড়ে। তবে শুকনো মৌসুমেও এসব স্থানের রয়েছে অন্য আরেক ধরনের নান্দনিক রূপ। তাই বছরজুড়েই এখানে থাকে পর্যটকের ভিড়। এসব স্থান পর্যটকদের কাছে জল-পাথর আর বুনো সৌন্দর্যের আধার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

default-image

সিলেট শহর থেকে ঘণ্টা দেড়েকের দূরত্বে অবস্থিত রাতারগুল। বর্ষাকালে এখানে জলমগ্ন গাছগুলো একে অপরের সঙ্গে গলাগলি করে থাকে। জলের ওপরে জঙ্গুলে পরিবেশে পর্যটকেরা বুঁদ হন। তবে শুকনো মৌসুমে জলহীন রাতারগুলও দেখতে কম সুন্দর নয়। দুটি মৌসুমেই রাতারগুল তাই পর্যটকদের ডাকে হাতছানি দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

প্রাকৃতিকভাবে এখানে বেড়ে ওঠা হিজল-করচ-বরুণগাছের পাশাপাশি বেত, ইকরা, খাগড়া, মুর্তা ও শণজাতীয় গাছ রয়েছে। শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের সঙ্গে এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, পাখি ও উভচর প্রাণী। প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্ট না করে সতর্কতার সঙ্গে এখানে ভ্রমণ করার বিষয়টি তাই পর্যটকদের সব সময় খেয়াল রাখতে হয়।

আগের সৌন্দর্য তুলনামূলকভাবে হারালেও জাফলং ঘিরে পর্যটকদের মুগ্ধতা একটুও কমেনি। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের প্রতীক জাফলং ঘিরে মানুষের ভিড় তাই সব সময়ই থাকে। এখানে মানুষ জলবিহারে মেতে ওঠেন। জাফলংয়ের পাথর, সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্ট, ডাউকি ব্রিজ, পার্শ্ববর্তী চা-বাগান আর সীমান্তের ওপারে সৌন্দর্যে পর্যটকেরা আকৃষ্ট হন। অনেকে আবার জাফলংয়ের পিয়াইন নদের বুকে নৌকায় ভেসে বেড়াতেও পছন্দ করেন। অন্যদিকে বিছনাকান্দির জল-পাথরের শয্যায় ডুবে স্নাত হন পর্যটকেরা।

default-image

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সিলেটের বহুল আলোচিত পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর। এ ইউপির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের¯শূন্যরেখার কাছে সাদা পাথরের স্তূপ ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। সীমান্তের¯ওপারে পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের অবগাহনে বছরজুড়ে এখানে পর্যটকের যাতায়াত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে শুরু হওয়ার পর ছয় থেকে সাত মাস সাদা পাথরে পর্যটক আসেননি। এখন আবার পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন