বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক বলেন, নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধে সাহসী ভূমিকার কারণে বর্ষা আজ সাহসী কন্যা। অন্যদের কাছে এটি অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সভ্য সমাজে বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাল্যবিবাহ দেওয়া মানে সম্ভাবনাময় একটি মেয়েকে দমিয়ে দেওয়া। ১৫-১৬ বছরের একজন মেয়ে জীবনের কী বোঝে? তার শরীর প্রস্তুত নয়। বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েরা শিশুবয়সে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, সন্তানও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সব মানুষকে সচেতন হতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধে সাহসী ভূমিকার কারণে বর্ষা আজ সাহসী কন্যা। অন্যদের কাছে এটি অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সভ্য সমাজে বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিন বলেন, প্রত্যেকে মেয়েকে আগুনের শিখা হয়ে জ্বলতে হবে, যাতে তোমার আলোতে যাতে চারদিকে আলোকিত হয়। জীবনে যাতে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারো সেই প্রচেষ্টা করতে হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রণ) আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা যখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই, তখন ছেলে-মেয়ের অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ শতাংশ। বর্তমানে ঠিক তার উল্টো চিত্র। অর্থাৎ অনুকূল পরিবেশ পেলেই মেয়েরাও অনেক সাফল্য দেখাতে পারে, পারবে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাহসী কন্যা বর্ষা বলে, ‘আমার মায়েরও বাল্যবিবাহ হয়েছিল। জন্মের পর মাকে কখনো সুখী দেখিনি। তাই মায়ের ইচ্ছা আমাকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। কিন্তু মামা ও খালারা মিলে আমাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে আয়োজন করছিলেন। তাঁদের অনবরত চাপের কারণে পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম। পুলিশ সহযোগিতা করেছে। আমার বিয়ে বন্ধ হয়েছে। আমি পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী হয়ে আমার মায়ের দুঃখ দূর করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাবিলা রুখছানা ছন্দা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী বর্ষাকে তার মামা-খালারা জোর করে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করছিলেন। তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। মুড়ি তৈরির কারখানায় কর্মরত মায়ের পক্ষে মেয়ের বিয়ে ঠেকানোর উপায় ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনিও রাজি হন। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে বর্ষা গত মঙ্গলবার সরাসরি সদর থানায় যায় এবং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনকে বিস্তারিত জানালে তিনি বিয়ে বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার প্রথম আলোর দ্বিতীয় পাতায় ‘বিয়ে বন্ধে স্কুলছাত্রী থানায়’ এবং আজ বৃহস্পতিবার প্রথম পাতায় ‘যাদের বাল্যবিবাহ হয়েছে, কেউ সুখে-শান্তিতে নেই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন