বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ণতা আক্তার প্রায় ছয় মাস ধরে সোনালী ব্যাংকের কেন্দুয়া শাখায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাভোগী গ্রাহকদের চেক লিখে দেওয়াসহ টাকা তুলতে সহায়তা করে আসছিলেন। এর বিনিময়ে তিনি কিছু পারিশ্রমিক নেন।

দুই সপ্তাহ আগে নিরক্ষর পারভিন আক্তার সোনালী ব্যাংকের ওই শাখায় আসেন। তাঁকে হিসাব নম্বর খুলতে সাহায্য করেন পূর্ণতা। হিসাব খোলার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পারভিনকে চেকবই দিয়েছিল। পূর্ণতা কৌশলে চেকের একটি পাতা ছিঁড়ে নেন। তিনি ওই চেকে পারভিনের সই জালিয়াতি করে তাঁর হিসাব নম্বর থেকে রোববার দুপুরে সাত লাখ টাকা তুলে নেন।

টাকা তোলার বিষয়ে পারভিনের মুঠোফোনে খুদে বার্তা গেলে তিনি বিষয়টি টের পান। দ্রুত তিনি ব্যাংকে হাজির হয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। তখন ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে রাত ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সোমবার দুপুরে পূর্ণতার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে পারভিনকে ফিরিয়ে দেন তাঁরা। তবে জালিয়াতির বিষয়ে ওই নারী বা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যোগাযোগ করলে সোনালী ব্যাংকের কেন্দুয়া শাখা ব্যবস্থাপক আরিফ আহম্মদ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই টাকা উদ্ধার করে মূল গ্রাহককে ফিরিয়ে দিয়ে বিষয়টির মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে। যিনি টাকাটা নিয়েছিলেন, তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নেত্রকোনা অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রাসমোহন সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন