বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সই জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘটনার কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১২ জন সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

আহসান উল্লাহ ইসমাইলী: মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার এটা একটা নতুন কৌশল। এ কৌশল বাস্তবায়ন করতে অন্যায়ভাবে অনেক পক্ষ কাজ করেছে। এর ফলে ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে একটা সামাজিক দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি হবে। এটি একটি খারাপ কাজের নজির হয়ে রইল। এ থেকে সংঘাতের আশঙ্কাও আছে।

প্রথম আলো: এটা কি অপরাধ নয়?

আহসান উল্লাহ ইসমাইলী: এটা নতুন কৌশলে একটা প্রতারণা। আর সামাজিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী আইনে অপরাধ। এটা তদন্তে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি অপরাধ।

প্রথম আলো: এ ঘটনায় মামলা হওয়া উচিত?

আহসান উল্লাহ ইসমাইলী: একটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার ভোটার থাকেন। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায়ও এটা অপরাধ। এ অপরাধগুলোর মামলা ও তদন্ত না হলে প্রতিনিয়ত পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ভোট মানুষের আমানত। তা রক্ষায় মানুষের জীবন দেওয়ার ইতিহাসও আছে। তাই এগুলো দমন করার জন্য মামলা করা জরুরি।

প্রথম আলো: এ সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

আহসান উল্লাহ ইসমাইলী: স্থানীয় সরকার নির্বাচনপদ্ধতিগুলো পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতা জরুরি। নির্বাচনী আইন প্রয়োগ করতে হবে সঠিকভাবে। কঠোরভাবে নির্বাচনের বিধিমালা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। তখন এমন কার্যক্রম করা থেকে সবাই বিরত থাকবে।

প্রথম আলো: প্রার্থীদের রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এমপি স্যার বলেছেন, চিতলিয়া ইউনিয়নে কোনো নির্বাচন হবে না। সবাই সিলেক্টেড হবে।’ সাংসদ ইকবাল হোসেন এই কথা অস্বীকার করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা কি এভাবে বলতে পারেন?

আহসান উল্লাহ ইসমাইলী: সাংসদ সম্মানিত আইনপ্রণেতা। তাঁর দিকে অভিযোগের তির তোলার আগে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাকেই প্রমাণ করতে হবে, সাংসদ এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর ওটা তো সাংসদের অধিক্ষেত্র নয়। তিনি সিদ্ধান্ত দিলেই রিটার্নিং কর্মকর্তা মানবেন কেন? এটা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে অনীহা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন