ভেড়ামারায় আ.লীগ নেতা খুন
জাসদ-আ.লীগে তীব্র বিরোধ
১৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান খুন হন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, জাসদের নেতা–কর্মীরা হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু)। কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে দল দুটির নেতা-কর্মীদের এক মঞ্চে দেখা যায়। তবে স্থানীয়ভাবে দল দুটির নেতা–কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। নেতা-কর্মী খুনের ঘটনার পর এই বিরোধ আরও তীব্র হয়। বিশেষ করে মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় এ রকম ঘটনা বেশি ঘটছে।
১৮ ফেব্রুয়ারি ভেড়ামারার চণ্ডীপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খুন হন। এ ঘটনায় গত বুধবার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছ পুলিশ। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, জাসদের নেতা–কর্মীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মামলায় প্রধান আসামি জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম। জাসদের দাবি, স্থানীয় বিরোধে সিদ্দিকুর রহমান খুন হয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই।
জাসদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার চাপে জাসদ নেতাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
জাসদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার চাপে জাসদ নেতাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। অবশ্য এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলায়। সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগেই এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে মহাজোটের অন্যতম প্রধান দুটি দলের নেতারা এখন বাক্যুদ্ধে লিপ্ত।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সমর্থন নিয়ে হাসানুল হক ইনু সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তাঁদের মনে রাখেননি। এখন সাংসদের সহযোগীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করছেন। ভোটের মাঠে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
সিদ্দিকুর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপজেলা জাসদ সভাপতি আনসার আলী বলেন, ‘চাঁদগ্রামে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক মণ্ডল নিহত হয়েছেন। সেখানে ৫০ বছর ধরে মণ্ডল ও মালিথা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। এ হত্যাকাণ্ডে জাসদ কোনোভাবেই জড়িত নয়। জাসদকে ঘায়েল করতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার নির্দেশে আমাদের দলের নেতাদের আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। সিদ্দিক হত্যা নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।’
জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায় বলেন, ‘সিদ্দিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে আওয়ামী লীগ নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে। তারা জাসদ, আমাদের নেতা হাসানুল হক ইনু ও আবদুল আলিমের ইমেজ নষ্ট করতে মিথ্যা মামলা করেছে। এ মামলা নিয়ে রাজনীতি করতে চাইলে মাঠেই এর জবাব দেওয়া হবে। তবে জাসদ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাসদের নেতারা সরাসরি জড়িত বলে দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বুলবুল কবির বলেন, ‘স্বপনের (আবদুল আলীম) নির্দেশে আবদুল হাফিজ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এ কথা নিহত ব্যক্তির পরিবার থেকেও বলা হয়েছে। যে যুবক অস্ত্র হাতে সেদিন গুলি ছুড়েছিলেন, তিনি তপনের ক্যাডার। সেদিন তাঁদের দলের ২০-২৫ জনের হাতে অস্ত্র ছিল।’
ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘জাসদের সঙ্গে আর কোনো আপস নয়। আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে এমপি হবে। আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গুলি করে হত্যা করবে, এটা হতে পারে না। এখন থেকে প্রয়োজনে প্রতিরোধ করা হবে। স্থানীয়ভাবে আর জাসদের সঙ্গে কোনো ঐক্য করা সম্ভব নয়। জাসদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই আমাদের।’