default-image

‘বগুড়ার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত শ্যামল ভট্টাচার্য জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন আমরণ। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, এবার মৃত্যুর পর তাঁর লাশ চিকিৎসাবিদ্যায় কাজে লাগানোর জন্য দান করা হলো বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর লাশ কলেজ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শ্যামল ভট্টাচার্যের ছোট ছেলে অভ্র ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, বাবার দেহদান–সংক্রান্ত কাগজপত্র আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বড় ছেলে পিনাকী ভট্টাচার্যও তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় শ্যামল ভট্টাচার্যের মরণোত্তর দেহদানের কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শ্যামল ভট্টাচার্য গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বার্ধক্যজনিতসহ নানা কারণে অসুস্থ হলে তাঁকে প্রথমে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ১ নভেম্বর তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল আলম বলেন, শ্যামল ভট্টাচার্যের লাশ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কাগজপত্র হস্তান্তর করেছেন। তাঁর দেহ চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো হবে।

default-image

শ্যামল ভট্টাচার্য বগুড়া জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর তিনি বিনা পয়সায় বই বিলানো শুরু করেন। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠকের দায়িত্বও পালন করেন। জেলা শহরের জলেশ্বরীতলার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের পাশের এলাকায় থাকতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী সুকৃতি ভট্টাচার্য পেশায় গৃহিণী। দুই ছেলের মধ্যে লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য বর্তমানে ফ্রান্সের প্যারিসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ছোট ছেলে অভ্র ভট্টাচার্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগে (সিপিডি) কর্মরত। শ্যামল ভট্টাচার্যের একমাত্র মেয়ে লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য কানাডাপ্রবাসী।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুতে শোক, শ্রদ্ধা

শ্যামল ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত বগুড়ার জলেশ্বরীতলা এলাকার চার শতাধিক দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এর আগে গতকাল রাতে তাঁর মরদেহ বগুড়া জিলা স্কুলের মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে বগুড়া জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বগুড়া জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামির হোসেন বলেন, স্যারের দেহ জিলা স্কুলের মাঠে নেওয়ার পর নবীন-প্রবীণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেন। ফুল দিয়ে তাঁরা বগুড়ার এ বাতিঘরের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

মন্তব্য পড়ুন 0